
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া রেল স্টেশনটি চালু হওয়ার ১১০বছর পরও যাত্রীদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। ট্রেনে যাত্রীদের যাতায়াত বাড়লেও তেলিয়াপাড়ায় রেল স্টেশনের কোন উন্নতি হয়নি।
দুই একটি লোকাল ট্রেন যাত্রাবিরতি করলে ১০ বছর ধরে এ স্টেশনে কোন টিকেট মাস্টার নেই। স্থানীয় জনগণ অনেক বছর ধরে এ রেল স্টেশনের সংস্কারের দাবি জানালেও তা পূরণ হয়নি। দিনের পর দিন স্টেশনের অফিসটি বন্ধ রয়েছে জনবলের অভাবে।
স্থানীয় লোকজন জানান, সুরমা তেলিয়াপাড়া চা বাগান সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে শত শত মানুষ এ রেল পথে যাতায়াত করতেন। রেল স্টেশনের অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে। যাত্রী বিশ্রামাগার ও শৌচাগার এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।
কাজী হুমায়ুন নামে এক বাসিন্দা জানান, স্টেশনটিতে যাত্রীদের জন্য কোন সুযোগ সুবিধা নেই, ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। এমন কি এই স্টেশনটিতে একজন বুকিং মাস্টারও নেই।
আওয়ামীলীগ নেতা বাবুল হোসেন খান জানান, এ রেল স্টেশনটি এখন শুধু কাগজে কলমে রয়েছে। কোনো যাত্রী এখান থেকে সেবা পান না। ২০১১ সালের তৎকালীন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী এনামূল হক মোস্তফা শহীদ রেল স্টেশনটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তিনি মারা যাওয়ায় এ উদ্যোগটি সফল হয়নি। বর্তমান সংসদ সদস্য মাহবুব আলীর সহযোগিতায় রেল মন্ত্রীর মাধ্যমে তেলিয়াপাড়া রেল স্টেশনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী সংসদ সদস্যের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, এ রেল স্টেশনটি সংস্কার করে আন্তঃনগর ট্রেন সহ লোকাল ট্রেনগুলো দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা হলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব পেত এবং এলাকাবাসীও স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালামাল ট্রেনে আনা নেওয়া করতে পারত। বর্তমানে কুশিয়ারা, বালা ট্রেন দুটি এখানে যাত্রাবিরতি করলেও স্টেশন মাস্টার না থাকায় বিনা টিকেটেই অধিকাংশ যাত্রী চলাচল করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পূর্বাঞ্চল রেলের একজন কর্মকর্তা জানান, লোকবলের সংকট থাকায় এ ধরনের অনেক রেল স্টেশনে লোক নেই। এছাড়া রেলের সংস্কার করতে হলে সরকারের উচ্চ মহলের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।