• ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ভার্চুয়াল জগতে অশ্লীল লেখালেখি ও বেপরোয়া কথা বার্তার ছড়াছড়ি

admin
প্রকাশিত আগস্ট ১৪, ২০১৮
ভার্চুয়াল জগতে অশ্লীল লেখালেখি ও বেপরোয়া কথা বার্তার ছড়াছড়ি

বাংলার আলো ডেস্ক :::::::: সেফাতুল্লাহ ওরফে সেফুদা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি। কিম্ভুতকিমাকার ভঙ্গিতে অদ্ভুত, অশ্লীল আর বেপরোয়া কথাবার্তা ছড়াচ্ছে ভার্চুয়াল জগতে। অস্ট্রিয়া প্রবাসী এই বাংলাদেশির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত পরিবার। তার মতো অশালীন বক্তব্য ছড়াচ্ছে আরও অনেকে। পুলিশ বলছে, বিদেশে বসে যারা প্রতিনিয়ত এদেশে বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সেয়াফেত উল্লাহ ওরফে সেফুদা দিনরাত বিশ্রী অঙ্গভঙ্গিতে আজগুবি, অশ্লীল আর বেপরোয়া কথা বার্তাসম্বিলত ভিডিও ছেড়ে দিচ্ছেন ফেসবুকে। আর, তাতেই যেন মজে গেছেন বাংলাদেশের অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী। ফেসবুক ট্রলের একটি বড় অংশে এখন কথিত সেফুদার আধিপত্য। অনেকেই মনে করছেন, ধরনের চর্চা মানুষের শ্রেয়বোধ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
খোদ সেপায়েত উল্লাহর পরিবারের বিব্রত তার এমন কর্মকাণ্ডে। সেফায়েতউল্লাহ স্ত্রী জানান, ২৮ বছর আগে দেশ ছাড়েন তিনি; বর্তমানে তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত।

কয়েক মাসে, আসাদ পং-পং নামেও এক মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেই এমন বেপরোয়া ও অশ্লীল ভিডিও ছড়িছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেক বছর যাবত তিনি মালয়েশিয়াতে অবস্থান করছেন। কিছু দিন পূর্বে সিলেট জেলার লোকদের নিয়ে কটুক্তি করায় ভার্চুয়াল জগতে অনেক নাজেহাল হন। এবং তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়া পুলিশ। আসাদ পং-পং এর পরিবারের লোকজনদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। জানা গেছে আসাদ পং পং এর পরিবারের লোকজন তার এ ধরনের আচরণের জন্য নিজের এলাকা ছেড়ে অনত্র চলে গেছেন।

মোফাসল ইসলাম লন্ডন প্রবাসী তিনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সবচেয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত ব্যক্তি। প্রথম প্রথম জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করলেও এখন সেরকম নেই। তিনির জনপ্রিয়তার ধস নামে বাংলাদেশি আরেক ইউটিউব বল্গার আসাদ নুর উরফে আসাদ গ্রেফতার হবার পর থেকে। কেউ কেউ বলছে তিনিই থাকে ইন্ডিয়া থেকে দেশে ফেরার কথা বলেছেন, আবার কখনো কখনো ভিন্ন কথা শুনা যাচ্ছে। ইসলাম ধর্মের নবীকে নিয়ে কটুক্তি ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করা উনার নিত্য দিনের কাজ সাথে সাথে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদের গালাগালি করা এযেন এক উল্মাদের পরিচয়। তিনির ভিডিও ইউটিউবে সয়লাব। কিছু দিন পূর্বে সৌদি প্রবাসীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মক্কা শরীফ ও মদিনা শরিফ নিয়ে যা ইচ্ছা তা বলেছেন। উনি নিজেকে একজন বারিষ্টার বলে দাবি করেন। আসাদ নুর উরফে আসাদ কে বাংলাদেশ সরকারের জেল থেকে মুক্ত করে নিবেন, এ নিয়ে বেশ কয়েকবার নিজের ফেইসবুক পেইজে লাইভে এসে সরকারকে চেলেন্জ ছুড়েদিয়েছিলেন। মোফাসল ইসলাম তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার পর থেকে পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ নেই এমনকি উনার দাম্পত্য জীবন ভেংগে গেছে অনেক আগেই। উনার স্ত্রী একমাত্র ছেলেকে নিয়ে আমেরিকা পাড়ি জমিয়েছেন।

নাদিয়া ইসলাম, তিনি পারিবারিক সূত্রে বাংলাদেশি বৃটিশ একজন উচ্চ শিক্ষিত নারী। তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার সাথে সাথে শরিরের বিভিন্ন স্থানে টাটু একে নিজেকে পশ্চিমা অংগ ভংগিতে তৈরি করেছেন। ফেইসবুক লাইভে এসে ইসলাম ধর্ম , এবং নবীকে নিয়ে যা ইচ্ছা তা কটুক্তি করেন। অনেক সময় খুল্লাম খুলা মন্তব্য করতে দ্বিধা বোধ করেন না। তিনি আবার ঘন ঘন জীবনসঙ্গী পরিবর্তন করেন। নাদিয়া ইসলাম তার পরিবারের লোকজনের সাথে তিনির তেমন যোগাযোগ নেই। তারা পিতা মাতা বৃটেনে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। নাদিয়া ইসলাম বিবাহিত হলেও সে বিয়ে অনেক আগেই ভেঙে গেছে তার ব্যাপরোয়া চাল চলনের কারণে।

অনুপ পাল, ভার্চুয়াল জগতে তিনি মসজিদ মাদ্রাসাতে বলৎকার ও বাংলাদেশের তৌহিদী ঈমাম গনদের চরিত্র এমনকি ইসলাম ধর্মের নবীর চরিত্র নিয়ে বহুদিন ধরে লিখালিখি করছেন এবং সাথে সাথে সরকারের সমালোচনা তো আছেই। রুহিংগা গনহত্যা নিয়ে পৃথিবীর মানুষ যখন রুহিংগাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যস্ত কিন্তু তখন তিনি রুহিংগাদের গনহত্যা নিয়ে সরাসরি মায়ানমারের পক্ষে লেখালেখি করেন। মুসলিম জাতি তথা বিশ্বের মুসলিম উল্মাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে লেখালেখি এটা তার নিত্য দিনের কাজ। দেশে যখনই কোন সংখ্যালঘু সমপ্রদায় নির্যাতনের শিকার হন তখনই তিনি দেশের তথা বিশ্বের মুসলিম উম্মাদের যা ইচ্ছা তা গালিগালাজ করে পৌস্ট দিচ্ছেন । তিনি জাতির জনক বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, এমনকি বাংলাদেশের প্রসাশনিক ব্যবস্থা সহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গালিগালাজ অহরহ করে থাকেন। তিনি ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ সাঃ এর ছবি ব্যংগ করে অনেক বাজে বাজে কথা লিখেছেন। মসজিদ ও মাদ্রাসাকে তিনি পতিতালয়ের সাথে তুলনা করেছেন। ভার্চুয়াল জগতে তিনির পরিচয় একজন “সাইলেন্ট রেভোলোশন” হিসেবে। তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে বিগত প্রায় দু দশক এর উপর থেকে উনার পরিবারের লোকজন লাপাত্বা। অনুপ পাল, প্রথমে লন্ডন বসবাস করলেও বর্তমানে ফ্রান্সে আবস্হান করছেন।

নন্দিতা সুমি উরপে লোপা রহমান, বাংলাদেশের নাগরিক। লেখাপড়ার জন্য লন্ডনে আসেন ২০০৯ সালে , কেরানিগন্জের রহিম আহমেদ সাহেবের মেয়ে। ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার পর থেকে পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বসবাস করেন লন্ডনে কিন্তু তিনির ফেইসবুক পেইজে ইন্ডিয়ার ঠিকানা ব্যবহার করেন। তিনি ঘন ঘন ফেইসবুক একাউন্টের নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করেন। তিনির লাইভ ভিডিও এবং লেখালেখির ধরন খুবই উত্তেজনা পূর্ণ ।

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বলছেন, দেশের বাইরে বসে যারা দেশ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং তাদের সবার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই ভার্চুয়াল জগতের অপব্যবহার বাড়ছে। তিনি জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে সরকার শিগগিরি ইন্টারনেটে আড়ি পাতার ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।

সুত্র : চেনেল২৪ বিডি (১৩ অগাস্ট ২০১৮)