
এম এ মালেক
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীক হলেও এ ওয়ার্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। ওয়ার্ডের ভেতরে রয়েছে সরকারী হযঃ শাহপরান কলেজ, সিলেট ভোকেশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, নুরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও একমাত্র নছিবা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ ছাড়া রয়েছে সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, দেশের সর্ববৃহৎ ফল মার্কেট ইয়াছিন প্লাজা, জাতীয় ডিপো পদ্মা ও যমুনা, রয়েছে সিলেট সদর খাদ্য গুদাম।
২৬ নং ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র ৪ টি। এগুলো হচ্ছে কদমতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,ঝালোপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,নছিবা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট রেলওয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওয়ার্ডে বতর্মান মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭ জন।
আগামী সিটি নির্বাচনে ভোটাররা তাদের নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। এখন পর্যন্ত ২৬ নং ওয়ার্ডে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান কাউন্সিলর রোটারিয়ান আলহাজ্ব তৌফিক বকস্ লিপন, সাবেক কাউন্সিলর সেলিম আহমদ রনি, মো. মঈন উদ্দিন মো.রেজাউল করিম, এম এ মন্নান ও মো.খছরুজ্জ্বামান খছরু। ২৬ নং ওয়ার্ড এলাকা ঘুরে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।
২৬ নং ওয়ার্ডের ঝালোপাড়ার স্বপ্ননীড় আবাসিক এলাকার ১৬৮ নং বাসার বাসিন্দা ভোটার রুমান আহমদ বলেন,তৌফিক বকস্ লিপন কাউন্সিলর হিসেবে বিগত দিনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে তাকে আবারো কাউন্সিলর হিসেবে জয়লাভ করানো উচিত।
একই এলাকার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মাহমদ আলী বলেন,লিপন বকস্ ব্যক্তি হিসেবে ভাল। স্বপ্ননীড় ১৩৭ নং বাসার বাসিন্দা ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন ভূইয়া বলেন,সেলিম আহমদ রনি ১০ বছর কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ওয়ার্ডের তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন করেননি। লিপন বকস্ ৫ বছরে যে উন্নয়ন করেছেন, তা প্রশংসার দাবিদার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বপ্ননীড় ৪৩ নং বাসার বাসিন্দা সেপাল পাল একজন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, লিপনের বিকল্প অন্য কেউ নেই। লিপন বকস্ একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দাবী তার।
ঝালোপাড়া স্কুল সড়কের বাসিন্দা লামিয়া স্টোরের সত্যাধিকারী মো.আলাউদ্দিন বলেন, বিগত দিনে তার বাড়ির সামনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে একটু বৃষ্টি হলে হাটু সমান পানি জমাট বেধেঁ যেতো। লিপন বকস্ ড্রেন নির্মাণ করে দিয়েছেন বলে এখন আর জলাবদ্ধতার সৃষ্ঠি হয়না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, লিপন বকস্ বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করে দিলেও এলাকায় খাবার পানির সংকট নিরশনে তিনি সফল নন। সিটি কর্পোরেশনের পানির পাইপলাইন স্থাপন হলেও আজ পর্যন্ত পানির সংযোগ না দেওয়ার কারণে শীত মৌসুমে এলাকার মানুষ খাবার পানির অভাবে কষ্টে থাকেন। লিপন বকস্ পানির সংযোগ স্থাপন করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
ভার্থখলা এলাকার স্বর্ণালী এ ব্লক’র ৫০ নং বাসার বাসিন্দা টেইলারস্ ব্যবসায়ী আফরোজ বলেন, যে কয়জন প্রার্থী কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন, তাদের মধ্যে লিপন বকস্ যোগ্য প্রার্থী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, শুধু ড্রেন আর সোডিয়াম বাতি স্থাপন করলে খ্যাতি অর্জন করা যায় না। এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে অপরাধ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভার্থখলার চারপাশ ও কদমতলী বালুর মাঠে ভারতীয় তীরখেলা মহামারি আকার ধারণ করেছে, এসব অবৈধ তীর খেলা উচ্ছেদে আজ পর্যন্ত কেউ কোনো ভুমিকা পালন করেনি বলে ক্ষোভের সাথে জানান তিনি।
ভার্থখলা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, টার্মিনালের পেছনে নির্মাণাধীন ড্রেনের কাজ পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন না হওয়ার কারণে ভার্থখলার কয়েকস্থানে এখনো জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভার্থখলার একজন ভোটার বলেন, সেলিম আহমদ রনি ও লিপন বকস্’র মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এ দুজনের নাম চারিদিকে শুনা যাচ্ছে। দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
জিঞ্জিরশাহ মাজার এলাকা থেকে শুরু করে বরইকান্দির গাঙু পর্যন্ত ২৬ নং ওয়ার্ডের শেষ সীমানা, যাকে সাধুরবাজার বলা হয়। এ এলাকার ভোট কেন্দ্র হচ্ছে রেলওয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ কেন্দ্রে প্রতিবারই কোনো না কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়। ভোট কেন্দ্রকে ঘিরে সাবেক কাউন্সিলর সেলিম আহমদ রনি ও কাউন্সিলর প্রার্থী মঈন উদ্দিনের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা চলছে বলে জানান সাধুরবাজার এলাকার বাসিন্দারা।
সাধুরবাজার এলাকার বহিরাগত ভোটাররা নির্বাচনের সময় অজানা আতংকে থাকেন। কেউ মুখ ফুটে কিছু বলতে চাননা। সাধুরবাজার এলাকার বাসিন্দা মঈন উদ্দিন এ কেন্দ্রের সিংহভাগ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোটার।
চাদনীঘাট এলাকার বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার ক্ষোভের সাথে বলেন, ভোট দিয়ে লাভ কি ? ক্বীণব্রীজের নীচে অনৈতিক কার্যকলাপ ও ভারতীয় অবৈধ তীর খেলা বন্ধে সবাই অন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে এলাকার তরুণ যুব-সমাজ বিপদগামী হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আরেক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোটার বলেন,তীর খেলার এজেন্টরাও হয়ে যায় কাউন্সিলর প্রার্থী। এরা যদি জনপ্রতিনিধির আসনে বসে,তাহলে সমাজে বেচেঁ থাকা মুশকিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অপরদিকে কদমতলী এলাকার ভেতরে ভোট কেন্দ্র হচ্ছে কদমতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ কেন্দ্র রোটারিয়ান তৌফিক বকস্ লিপনের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এ কেন্দ্রে ভাগ বসাতে চান কদমতলী এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থী খছরুজ্জামান খছরু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভোটার বলেন, সাবেক কাউন্সিলর সেলিম আহমদ রনি কদমতলী এলাকার ভেতরে বেশ কয়েক পরিবারের ভোট ও কদমতলী এলাকার ভোটারদের বশে আনতে জোর লবিং চালাচ্ছেন।
কাউন্সিলর প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ তৌফিক বকস্ লিপন : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ডের কদমতলীর বাসিন্দা আলহাজ্ব মোহাম্মদ তৌফিক বকস্ লিপন বলেন, তিনি প্রায় ২ যুগ ধরে জনসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত থাকা তৌফিক বকস্ লিপন দক্ষিণ সুরমার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন স্বর্ণশিখা সমাজকল্যাণ সমিতির সাবেক সফল সভাপতি।
এ ছাড়া তিনি রোটারী ক্লাব অব মেট্রোপলিটন সিলেট’র ২০১৭-১৮ সালের প্রেসিডেন্ট। ২০১৩ ইং সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তার নিজ এলাকা কদমতলী ও ২৬ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের ভোটে কাউন্সিলর হিসেবে জয়লাভ করেন। সেই সময়ে ওয়ার্ডের ভেতরে সমস্যার কমতি ছিলনা। ভাঙাচুরা রাস্তা আর ড্রেনেজ সমস্যার ভেরাজালে বন্দি ছিলেন ওয়ার্ডবাসী।
তৌফিক বকস্ লিপন ওয়ার্ডের প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করে একে একে সমাধান করতে রাতদিন পরিশ্রম করেছেন। বিগত দিনে এ ওয়ার্ডের অর্ধেক কাজও কেউ করতে পারেনি। কদমতলী কবি দেলোয়ার সড়কের কাজ সমাপ্ত করেছেন। কবি দেলোয়ার সড়কের পূর্বের অবস্থা অনেকেই দেখেছেন। হুমকির মুখে এ সড়ক দিয়ে যাতাযাত করা হতো। বর্তমানে হুমায়ূন রশীদ চত্তর, মুক্তিযোদ্ধা চত্তর, আব্দুস সামাদ চত্তর, ফোরলেন রাস্তার কাজ চলছে, ক্বীনব্র্রীজ থেকে চাদনীঘাট ঝালোপাড়া হয়ে কদমতলী পর্যন্ত ফোরলেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্পন্ন হয়েছে জকিগঞ্জ সড়ক থেকে দরিয়াশাহ মাজার হয়ে ফেরিঘাট পর্যন্ত আরসিসি পাকা রাস্তার কাজ। স্কুল-মাদরাসা,মাজার মসজিদের উন্নয়নসহ ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে নিজেকে সব সময় নিয়োজিত রেখেছেন বলে জানান তিনি।
অপরাধরোধে ওয়ার্ডে লাগিয়েছেন সিসি ক্যামেরা। কদমতলীতে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ড্রেন ও রাস্তা থেকে বঞ্চিত ২২ টি পরিবারের মুখে তিনি হাসি ফুঠিয়েছেন। তৈরি করে দিয়েছেন ২২ পরিবারের জন্য ড্রেন। এ রকম ২৬ নং ওয়ার্ডের পাড়া মহল্লাসহ প্রতিটি পরিবারের বাসার সামনের অংশ ও তিনি পাকা করে দিয়েছেন। নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদি তৌফিক বকস্ লিপন আরো বলেন,মানুষের সেবা করা ইবাদত। ওয়ার্ডের ভোটাররা আমাকে যদি যোগ্য মনে করেন, তাহলে আবারো জনপ্রতিনিধির আসনে আমাকে বসাবেন। আমি যতোদিন বাচঁবো,মানুষের সেবা ও এলাকার উন্নয়ন করে যাবো।
কাউন্সিলর প্রার্থী সেলিম আহমদ রনি : সাবেক দুবারের কাউন্সিলর সেলিম আহমদ রনি। বিগত ২০০৩ সালের ২০ শে মার্চ নির্বাচনে ওয়ার্ড কমিশনার হিসেবে তিনি প্রথম জয়লাভ করেন। পরে ২০০৮ ইং সালের ৮ জুনের নির্বাচনে তিনি পূনরায় কাউন্সিলর হিসেবে বিজয়ী হন।
পরবর্তীতে তিনি ২০১৩ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী রোটারিয়ান হাজী তৌফিক বকস্ লিপনের সাথে পরাজিত হন। বর্তমান ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি আবারো প্রার্থী হয়েছেন। সেলিম আহমদ রনি বলেন, তিনি একটানা ১০ বছর জনপ্রতিনিধি থাকাকালে ওয়ার্ডের খোজারখলা মার্কাজ জামে মসজিদের মিনার,ঈদগাহ ও মাদ্রাসার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন।
এ ছাড়া তিনি সুরমা নদীতে গোসলের জন্য ঘাট নির্মাণ,সাধুরবাজার রেলওয়ে কোয়াটার জামে মসজিদ নির্মাণ, কদমতলী হযঃ দরিয়াশাহ মাজার ও জামে মসজিদে অনুদান প্রদানসহ ২৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন মসজিদে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অনুদান প্রদান করেন তিনি।
অপরদিকে সাধুরবাজার রেলওয়ে স্কুলের পাশে মন্দিরের সংস্কারসহ ২৬ নং ওয়ার্ডের অনেক ড্রেন ও রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন বলে জানান তিনি। সেলিম আহমদ রনি আরো বলেন, বর্তমানে ২৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় শিলং তীর খেলা মহামারি আকার ধারণ করেছে। শিলং তীর জুয়া খেলার কারণে উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবকরা বিপদগামী হচ্ছে।
বেড়েছে অপরাধের হার। কদমতলীর বালুর মাঠসহ রেলওয়ে এলাকায় অবস্থিত মাদকের আস্তানাগুলো প্রভাবশালীদের মদদে চলছে। আবাসিক বিভিন্ন হোটেলে অনৈতিক কার্যকলাপ চরম আকার ধারণ করেছে। ওয়ার্ডের ভেতরে বেকারত্বের হার বেড়েছে। বখাটে আর চাদাঁবাজদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হলে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক ও জুয়ার আস্তানা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ সকলের মতামতের উপর ভিত্তি করে ওয়ার্ডের পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে চান তিনি। এ ছাড়া অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করার পাশাপাশি ২৬ নং ওয়ার্ডকে একটি উন্নত ও আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্ঠা চালিয়ে যাবেন তিনি।
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম এ মন্নান : তরুণ সংগঠক ও ছাত্রদল নেতা হিসেবে রয়েছে এমএ মন্নানের সিলেট জুড়ে পরিচিতি। তিনি ২৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ ১৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২ বছর দায়িত্বে ছিলেন, সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত থাকা এম এ মন্নান বলেন,
তিনি নির্বাচিত হলে নিরাপদ,পরিকল্পিত ওয়ার্ড ও ওয়ার্ডের বিশুদ্ধ পানির অভাব দুরসহ ওয়ার্ডের উন্নয়ন মুলক কাজ সবার মতামতের উপর ভিক্তি করে সমাধান করবেন। এ ছাড়া ওয়ার্ডের কয়েকটি স্থানে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক জুয়াসহ নানা ধরণের অপরাধের আস্তানাগুলো সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করবেন। নির্বাচনে জয়লাভে আশাবাদী এম এ মন্নান অপরাধ রোধে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাথে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
২৬ নং ওয়ার্ডের সচেতন মানুষের ভালবাসা ও অনুপ্রেরণায় তিনি কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন বলে উল্লেখ করে বলেন ২৬ নং ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। ওয়ার্ডের প্রধান সমস্য ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানে তিনি পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করতে চান। বয়স্ক ভাতা সঠিক ভাবে বন্টন করার পাশাপাশি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লার যুব-সমাজ ও মুরব্বীয়ানদের সাথে নিয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ ছাড়া সর্বক্ষেত্রে জবাবদিহীতা নিশিÍত করতে তিনি বদ্ধ পরিকর।
কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মঈন উদ্দিন : তরুণ সংগঠক, সাবেক ছাত্রনেতা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, পরিকল্পিত ওয়ার্ড ও ওয়ার্ডের নিরাপদ পানির অভাবসহ উন্নয়ন মুলক কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে।
এ ছাড়া ওয়ার্ডের কয়েকটি স্থান অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক জুয়াসহ নানা ধরণের অপরাধে আক্রান্ত। নির্বাচনে জয়লাভ করলে অপরাধ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। সাধুর বাজার এলাকাসহ ২৬ নং ওয়ার্ডের সচেতন মানুষের ভালবাসা ও অনুপ্রেরণায় তিনি কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন।
নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী মঈন উদ্দিন ২৬ নং ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি আরো বলেন,নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের প্রধান সমস্য ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানে তিনি পরিকল্পিত উন্নয়ন করবেন। বয়স্ক ভাতা সঠিক ভাবে বন্টন করার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা তিনি করবেন। ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লার যুব-সমাজ ও মুরব্বীয়ানদের সাথে নিয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ার পাশাপাশি তিনি অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।
কাউন্সিলর প্রার্থী মো.রেজাউল করিম : ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. রেজাউল করিম কৃতীত্বের সাথে এসএসসি,এইচএসসি,বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র হিসেবে বি.কম অনার্স এবং এম. কম ডিগ্রী অর্জন করার পর এমবিএ ডিগ্রী লাভ করেন। পরে আইনজীবি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন। তার শিক্ষা, শ্রম ও মেধাকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে নিয়েই ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, ২৬ নং ওয়ার্ডটি একদম অবহেলিত। সঠিকভাবে এখানে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। সড়ক রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নেই বললেই চলে।
ওয়ার্ডের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবে ঠিকে আছে। শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। শিক্ষার আলো ছাড়া মানুষ আলোকিত হতে পারেনা। এবং শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্যই দরকার আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিনি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের পরিকল্পিত উন্নয়ন,শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নতকরণ,রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন একটি আদর্শ ওয়ার্ড গঠন করবেন তিনি।
কাউন্সিলর প্রার্থী খছরুজ্জামান খছরু : কদমতলীর বাসিন্দা কাউন্সিলর প্রার্থী খছরুজ্জামান খছরু। সমাজসেবা ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত থাকা খছরুজ্জামান খছরু দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এলাকার খেলাধুলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি অনুদান দিয়ে থাকেন।
নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদি খছরুজ্জামান খছরু বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলে ২৬ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মতামতের উপর ভিত্তি করে পরিকল্পিত ও সঠিক উন্নয়ন সাধন করবেন।
এ ছাড়া তিনি এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।
তথ্য সূত্র : দৈনিক সিলেটের দিনকাল