• ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

২৫ নং ওয়ার্ডে প্রভাবশালী প্রার্থীদের কাছে জিম্মি বহিরাগত ভোটাররা

admin
প্রকাশিত জুলাই ১, ২০১৮
২৫ নং ওয়ার্ডে প্রভাবশালী প্রার্থীদের কাছে জিম্মি বহিরাগত ভোটাররা

এম এ মালেক :
‘‘নির্বাচনে জয়লাভ করতেই হবে, ভোটারদের বুঝিয়ে বশে আনতে না পারলে কসম খাইয়ে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় টাকা। তাতেও কাজ না হলে হুমকি কিংবা অন্য কোনো পন্থা অবলম্ভন করেন ২৫ নং ওয়ার্ডের প্রভাবশালী প্রার্থীরা” ২০১৩ ইং সালের নির্বাচনে এমটাই ঘটেছিল বলে ২৫ নং ওয়ার্ড এলাকা ঘুরে জানা যায় । বর্তমান ২০১৮ ইং সিটি নির্বাচনে একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি হতে পারে বলে আশংকা করছেন সাধারণ ভোটাররা।

এ ওয়ার্ডের বেশিরভাগ ভোটার বাইরের জেলার বাসিন্দা হওয়ায় প্রভাবশালী প্রার্থীদের কাছে তারা জিম্মি বলে জানান অনেকেই। কলোনী কেন্দ্রীক এসব ভোটাররা তাদের কলোনীর মালিকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য কাউকে ভোট দিতে পারেনা। টাকা ওয়ালা প্রার্থীরা কলোনী মালিকদের সাথে দরদাম সায়বস্থ করে ভোট প্রাপ্তি নিশ্চিত করেন। ভাড়াটিয়া ভোটাররা সবাই কলোনী মালিকদের ভয়ে তঠস্থ থাকেন। কোনো কোনো প্রার্থী তাদের নিজস্ব এলাকার কলোনীগুলোতে অবস্থানকারী ভোটাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড ) আগে ভাগেই নিজের কাছে রেখে দেন। পরে ভোটের আগের দিনের রাতে টাকা ও আখনী খাইয়ে ভোটার আইডি কার্ড তাদের হাতে প্রদান করেন।

৯ টি পাড়া মহল্লা নিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নং ওয়ার্ড এলাকা গঠিত। কাজিরখলা, গাঙু, খোজারখলা, দক্ষিণ ভার্থখলা, বারোখলা, কায়স্থরাইল, মুছারগাঁও, দাউদপুর ও মোমিনখলা নিয়ে ২৫ নং ওয়ার্ডের অবস্থান। ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ১২৬৪১ জন। ভোট কেন্দ্র চারটি হলেও পুরুষ ও মহিলা ভোটারদের আলাদা আলাদা ভোট গ্রহন করা হয়। মোমিনখলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,কায়স্থরাইল উচ্চ বিদ্যালয় ও কায়স্থরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,খোজারখলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সিলেট পলি টেকনিক্যাল স্কুল কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন ভোটাররা। ২৫ নং ওয়ার্ডের ভেতরে রয়েছে সিলেট ফরেন পোস্ট অফিস, নুরজাহান মহিলা ডিগ্রী কলেজ,সিলেট পলি টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট,৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সদস্য শাহ মজুর ও বেলু শাহ্ এর মাজার।

২৫ নং ওয়ার্ডে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, সাবেক দুবারের কাউন্সিলর আশিক আহমদ,বর্তমান কাউন্সিলর তাকবির ইসলাম পিন্টু, মো. কফিল উদ্দিন আলমগীর, মুহাম্মদ আফজল উদ্দিন, মোফজ্জুল হোসেন তালুকদার।

সিলেট ফরেন পোস্ট অফিস সংলগ্ন আজাদ স্টোরের সত্যাধিকারী আজাদ আহমদ একজন ভোটার, তিনি বলেন, যে কয়জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন, তারা সবাই নিজ নিজ এলাকায় ভোট ব্যাংক তৈরিতে ব্যস্ত। তবে তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকে তিনি ভোট দেবেন বলে জানান।

মুছারগাঁও এলাকার বাসিন্দা গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজসেবী সোহেল আহমদ বলেন, বিগত ৫ বছরে ২৫ নং ওয়ার্ডের ভেতরে তেমন কোনো পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি। যা হয়েছে তা লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়। এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল দশা দেখলে মনে হয় ওয়ার্ডে কোনো জনপ্রতিনিধিই নেই। তিনি এ অবস্থার পরিবর্তন চান। যোগ্য ও ব্যক্তিত্বপূর্ন ব্যক্তি কাউন্সিলর হিসেবে জয়লাভ করুক এ প্রত্যাশা করেন তিনি ।

বারোখলা এলাকার ভোটার ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, বারোখলা এলাকার ভেতরে কাউন্সিলর প্রার্থী আশিক আহমেদ ও কফিল উদ্দিন আলমগীরের ভোট রয়েছে।
কায়স্থরাইল এলাকার গুলবাহার ভিলার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন,এলাকার উন্নয়ন বলতে কিছুই নেই। বারোখলা ও কায়স্থরাইল এলাকার রাস্তার জড়াজির্ন অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান থাকার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষকে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। মেয়র আরিফুল হক রাস্তার করূন দশা দেখে গেলেও কোনো কাজ হয়নি।

চারগ্রাম যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক হারুনুর রশিদ সংগ্রাম বলেন,স্বচ্ছ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হলে কফিল উদ্দিন আলমগীর জয়লাভ করতে পারেন। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিকতার সাথে জড়িত। বিগত দিনে ২৫ নং ওয়ার্ডে যতটুকু কাজ করা হয়েছে তা শুধু মেয়র আরিফুল হকের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চাকুরীজীবি নাজিম উদ্দিন বলেন, কাউন্সিলর প্রার্থী তাকবির ইসলাম পিন্টুর নিজ এলাকা খোজারখলায় রয়েছে শক্ত অবস্থান ও জনপ্রিয়তা । আরেক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোটার বলেন, হিংসা আর কোন্দলের কারণে মোমিনখলা এলাকায় কোনো উন্নয়নমুলক কাজই করা হয়নি।

গাঙু এলাকার ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন,গরীব ভোটারদের আখনী খাইয়ে হাতে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দিয়ে ভোট ক্রয় করেন এমন প্রার্থীও রয়েছেন ২৫ নং ওয়ার্ডে। কাজিরখলা এলাকার বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার বলেন,কাজিরখলা এলাকায় কাউন্সিলর পিন্টুর বোনের বাড়ি, সেই সুবাদে এখানে রয়েছে তার আত্মীয়তা। কাজিরখলায় পিন্টু,আশিক ও কফিল উদ্দিন আলমগীরের ভোট সমান সামন থাকতে পারে। তবে কফিল উদ্দিন আলমগীর বিগত কয়েক বছর ধরে গাঙু ও কাজিরখলা এলাকার দুঃস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করে আসছেন। এসবের কারণে তিনি এখানে একটি শক্ত ভোট ব্যাংক তৈরি করতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।

দক্ষিণ ভার্থখলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার বলেন, বতর্মানে অনেক ভোটার টাকার বিনিময় ভোট বিক্রি করে থাকেন। নির্বাচনের সময় এলে বহিরাগত ভোটারদের মধ্যে ভোট বিক্রির হিড়িক পড়ে। কেউ কেউ নিজের ভোট দুই কিংবা তিন জন প্রার্থীকে প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা পকেটে ঢুকায়। দক্ষিণ ভার্থখলার আশিক ও পিন্টুর ভোট রয়েছে বলে জানান তিনি।

বারোখলা, কায়স্থরাইল, মুছারগাঁও, দাউদপুর এলাকার ভেতরে কফিল উদ্দিন আলমগীরের সমর্থক থাকলেও শেষ পর্যন্ত টাকা খেয়ে কেউ কেউ প্রভাবশালী প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে বলে মন্তব্যে করেন কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোটার। মোমিনখলা এলাকার ভেতরে সাবেক কাউন্সিলর আশিক আহমেদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। মোমিনখলা এলাকার ভেতর ঘুরে পাওয়া গেছে এ তথ্য। মোমিনখলাবাসী আশিক আহমেদকে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চান।

একইভাবে খোজারখলা এলাকার বাসিন্দারা যেকোনো কিছুর বিনিময় তাদের প্রার্থী তাকবির ইসলাম পিন্টুকে স্ব-পদে বহাল রাখতে চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন। ২৫ নং ওয়ার্ডে তাকবির ইসলাম পিন্টু,আশিক আহমদ ও কফিল উদ্দিন আলমগীরের মধ্যে ত্রী-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাউন্সিলর প্রার্থী তাকবির ইসলাম পিন্টু : বর্তমান কাউন্সিলর ও প্রার্থী তাকবির ইসলাম পিন্টু বলেন, বাইপাসের মুখ থেকে গালিমপুর সড়কের বেহাল দশা ছিলো,সেই রাস্তা ও দক্ষিণ খোজারখলার আরসিসি ড্রেন ও সড়ক পাকাকরণ কাজ সম্পন্ন করেন তিনি, ফরেন পোস্ট অফিস হইতে বাইপাসের মুখ পর্যন্ত গত বছর ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ করিয়েছেন। এ রাস্তার আরো ৪৫ লক্ষ টাকার কাজের টেন্ডার করা হয়েছে। রতœার খাল ও জৈন্তার খালের জন্য ১৫ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন। বারোখলা এলাকার প্রায় ৭০ বছরের পূরনো কালভার্ট ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। যা আগের তুলনায় অনেক বড়। মোমিনখলার এলাকার ভেতরে ৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে,যার ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খোজারখলা এলাকার ভেতরে ৪ টি বড় বড় ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ২৫ নং ওয়ার্ডের ভেতরে সর্বমোট ২৭ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বৃষ্টির কারণে অবশিষ্ঠ ডেভলপমেন্টের কাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে রেলওয়ে স্টেশনের ভেতরে মাদক আর অপরাধের আস্তানার কারণে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারতো না। সেই সময়ে পতিতা ও হেরোইনের স্পট ছিলো ১৭ থেকে ১৮ টি। বর্তমানে স্টেশন এলাকার ভেতরে কোনো মাদকের আস্তানা নেই বলে দাবী করে তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি ২৫ নং ওয়ার্ডের ভেতরে কোথাও মাদকের আস্তানা নেই। এ ছাড়া ওয়ার্ডের ভেতরে কোনো ভারতীয় তীরের বোর্ড নেই। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি কেউ ভারতীয় তীরের বোর্ড দেখাতে পারবেনা। তবে কেউ যদি তার বসতঘরে বসে মোবাইলের মাধ্যমে তীর খেলে, তা কারো পক্ষে বন্ধ করা সম্ভব নয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১০ ও ১১ নং ওয়ার্ডে যেভাবে গণহারে প্রকাশ্যে তীর খেলার সংবাদ পত্র পত্রিকায় দেখেছি। সে রকম চিত্র ২৫ নং ওয়ার্ডে নেই। আমি প্রশাসনকে নিয়ে সব সময় এসবের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। দক্ষিণ খোজারখলার শেষ মাথায় লাউয়াই রাস্তার মুখে ইয়াবা ট্যাবলেট হাটার মধ্যে বিক্রি হয়। অনেকেই মনে করেন এ স্থান ২৫ নং ওয়ার্ডের ভেতরে অবস্থিত। তা কিন্তু সত্য নয়। এ জায়গা বরইকান্দি ইউনিয়নের সীমানার ভেতরে অবস্থান করছে। আমি এ বিষয়টি প্রশাসন ও র‌্যাবকে অবহিত করেছি। নির্বাচনে যদি জয়লাভ করি তাহলে ওয়ার্ডের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করবো। মোমিনখলাসহ ৯ টি পাড়ার রাস্তাঘাটের টেকসই পরিকল্পিত উন্নয়ন ও আদর্শ ওয়ার্ড গঠনই আমার মুল লক্ষ্য। আর এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

কাউন্সিলর প্রার্থী আশিক আহমদ : ২০০৩ সালে তিনি প্রথম ২৫ নং ওয়ার্ডের কমিশনার হিসেবে জয়লাভ করেন। পরে ২০০৮ ইং সালে পূনরায় তিনি কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হন। মোমিনখলা এলাকায় জন্মগ্রহনকারী আশিক আহমদ বলেন, তিনি কমিশনার ও কাউন্সিলর হিসেবে ১০ বছর জনপ্রতিনিধি থাকাকালীন সময়ে সিলেট ফরেন পোস্ট অফিস থেকে বাইপাস পর্যন্ত সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ কাজ করেন, রতœার খাল খনন ও রতœার খালের পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণসহ ওয়ার্ডের শতাধিক কাচা সড়ক পাকাকরণের কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি মসজিদ, মাদ্রাাসা, স্কুল কলেজে অনুদান প্রদান, এলাকায় বয়স্কভাতাসহ সরকারী বিভিন্ন ভাতা সঠিকভাবে বন্ঠন করেছিলেন। তিনি বলেন, কাজিরখলা, গাঙু, খোজারখলা, দক্ষিণ ভার্থখলা, বারোখলা, কায়স্থরাইল, মুছারগাঁও, দাউদপুর ও মোমিনখলা এলাকার ভেতরে বিগত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি। চলাচলের রাস্তাগুলোর খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। মুছারগাঁও থেকে মোমিনখলা পর্যন্ত রাস্তার উপরে সব সময় হাটু পানি বিদ্যমান থাকে। ২৫ নং ওয়ার্ডের রেলওয়ে এলাকার ভেতরে আগে এক জায়গায় অপরাধের আস্তানা ছিল, বর্তমানে তা ছড়িয়ে পড়েছে ২৫ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লায়। ইয়াবা,হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের উৎপাতে অতিষ্ঠ এলাকার সাধারণ মানুষ। বেড়েছে অপরাধের হার। আশিক আহমদ আরো বলেন, সবার ভালবাসা ও দোয়ায় তিনি যদি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন, তাহলে ৯ টি পাড়ার মুরব্বী যুবক ও তরুনসহ ছোট বড় সকলের মতামতের উপর ভিক্তি করে পরিকল্পিত উন্নয়নমুলক কাজের মাধ্যমে ২৫ নং ওয়ার্ডকে নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন আধুনিক ওয়ার্ডে রূপান্তর করতে চান।

কাউন্সিলর প্রার্থী মো. কফিল উদ্দিন আলমগীর : কায়স্থরাইল ৯৭ নং বাসার বাসিন্দা কফিল উদ্দিন আলমগীর এলাকায় সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। তিনি কায়স্থরাইল সমাজকল্যাণ সমিতির বর্তমান সভাপতি। পেশায় একজন ব্যবসায়ী তিনি। চারপাড়ার সমর্থন নিয়ে তিনি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন জানিয়ে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লার মুরব্বী ও ছোটবড় সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সকল সমস্যা চিহ্নিত করে সঠিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি উন্নত ও সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন নিরাপদ আবাস হিসেবে ওয়ার্ড গড়ে তুলবেন।

কাউন্সিলর প্রার্থী মুহাম্মদ আফজল উদ্দিন : সিলেট মহানগর বিএনপির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ও সমাজসেবী মুহাম্মদ আফজল উদ্দিন এবারো কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বলেন,ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের মোমিনখলা রাস্তার মুখ থেকে রেললাইন পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজ তিনি মেয়র আরিফুল হকের মাধ্যমে করিয়েছেন। বিগত ১৫ বছরে ২৫ নং ওয়ার্ডে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে দাবী করে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের উন্নয়নসহ নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন একটি আদর্শ ওয়ার্ড গঠন করবেন তিনি।

কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মোফজ্জুল হোসেন তালুকদার : খোজারখলা এলাকার বাসিন্দা কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মোফজ্জুল হোসেন তালুকদার একজন সমাজসেবী । তিনি বলেন, ২৫ নং ওয়ার্ডের ভেতরে মসজিদ ও একটি কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারী বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। মসজিদ নির্মাণে ৪ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ১৭ লক্ষ টাকা এসেছে। কবরস্থানের জন্য ২৬ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ দুটি বরাদ্ধে অর্থমন্ত্রী ও মেয়রের অবদান রয়েছে । তিনি নির্বাচিত হলে ২৫ নং ওয়ার্ডের সকল সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত মতামতের উপর ভিক্তি করে পরিকল্পিত উন্নয়ন করবেন।

তথ্য সূত্র : দৈনিক সিলেটের দিনকাল