
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।
গতকাল ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের ছিকরাইলে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত একজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন মৌলভীবাজার সদর থানাধীন দশকাহনীয়া গ্রামের দ্বীপ্তেন্দ্র কুমার গোপ এবং তাহার দুই ছেলে দিবাকর কুমার গোপ ও প্রভাকর কুমার গোপ। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্বীপ্তেন্দ্র কুমার গোপকে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দুইজন স্থানীয় হাসপাতাল হইতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছিকরাইল জামে মসজিদের পাশে দ্বীপ্তেন্দ্র কুমার গোপের পৈত্রিক ৪০ শতক ভূমি রয়েছে, যাহা তাহাদের পারিবারিক শ্মশানের জন্য বরাদ্ধ। কিন্তু ছিকরাইল জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা আমির খান বেশ কিছুদিন যাবত উক্ত জমিতে মাদ্রাসা নির্মান করবেন বলিয়া দ্বীপ্তেন্দ্র কুমার গোপকে জায়গাটি বিক্রি করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে তিনি রাজী হননি। গতকাল সকাল অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় দ্বীপ্তেন্দ্র কুমার গোপের ছেলে দিবাকর কুমার গোপ কলেজে যাওয়ার পথে দেখিতে পান তাহাদের জমিতে একটি সাইনবোর্ড লাগানো যাহাতে লেখা রয়েছে “ক্রয় সূত্রে এই জমির মালিক ছিকরাইল জামে মসজিদ কমিটি”। বিষয়টি তিনি তার বাবাকে জানালে তাহার বাবা ঘটনাস্থলে আসেন এবং জমিতে সাইনবোর্ড লাগানো দেখে তাহা অপসারণ করেন। সংবাদ পেয়ে মাওলানা আমির খান তাহার দলবল নিয়ে দ্বীপ্তেন্দ্র কুমার গোপ ও তাহার ছেলেদের উপর হামলা চালান। ফলে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ লেগে যায়। একপর্যায়ে দ্বীপ্তেন্দ্র কুমার গোপ পেটে ছুরিকাহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এছাড়া দিবাকর কুমার গোপ ও প্রভাকর কুমার গোপও আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। একপর্যায়ে সুর চিৎকার শুনে আশপাশ হইতে লোকজন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরবর্তীতে আহতদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার দ্বীপ্তেন্দ্র কুমার গোপের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাহাকে দ্রুত সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায়, দ্বীপ্তেন্দ্র কুমার গোপ বর্তমানে আইসিইউ-তে মৃত্যুর সাথে পাঞ্চা লড়ছেন।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ আমাদের প্রতিনিধিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উক্ত ঘটনায় এখনো কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।