• ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মোগলাবাজারে স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীকে অপহরণ

admin
প্রকাশিত জুলাই ৭, ২০২৩
মোগলাবাজারে স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীকে অপহরণ

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের মোগলাবাবাজারে বৈরাগী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সকাল ১০টায় স্কুলে যাওয়ার পথে বৈরাগী বাজারের রাস্তা থেকে মোছাঃ ফাহমিদা সুলতানা রুনাকে জোরপূর্বক সিএনজি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায় অপহরনকারীরা। মোছাঃ ফাহমিদা সুলতানা রুনার বাড়ি মোগলাবাজার থানার বড়চক গ্রামে। এ বিষয়ে তার চাচা আব্দুল জলিল মোগলাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ফজর আলী রুনাকে অপহরণ করেছেন। ফজর আলী কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি রুনাকে বাড়িতে গিয়েও পড়াতেন। ফজর আলীকে একমাত্র আসামী করে তিনি উক্ত মামলা দায়ের করেন। ফজর আলী দক্ষিণ সুরমা থানার মোল্লারবন্দ পশ্চিম ভাগ গ্রামের রুশন মিয়ার পুত্র।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ফজর আলী মোগলাবাজারের স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। রুনা সেই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করতো। তবে ফজর আলী রুনাকে বাড়িতে গিয়েও পড়াতেন। সেই সুযোগে ফজর আলী প্রতিনিয়ত মোছাঃ ফাহমিদা সুলতানা রুনাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। তাহার প্রস্তাবে রাজি না হলে প্রাণে হত্যার হুমকিসহ নানাভাবে উত্যক্ত করতে থাকেন। ফজর আলীর আচরণে অতিষ্ট হয়ে রুনা বিষয়টি তাহার চাচা আব্দুল জলিলকে অবহিত করেন। ঘটনা শুনে আব্দুল জলিল তাৎক্ষণিক ফজর আলীকে ডেকে প্রতিবাদ করলে ফজর আলী ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং রুনাকে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ে করবেন বলে হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকাল ১০টায় মোছাঃ ফাহমিদা সুলতানা রুনা স্কুলে যাওয়ার পথে বৈরাগীবাজারের রাস্তায় আসা মাত্র পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা ফজর আলী তার বাহিনী জোরপূর্বক রুনাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। তখন রুনার সাথী মাহি আক্তার তাদেরকে বাধা দিলে অপহরণকারীরা তাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। তাৎক্ষণিক মাহি আক্তার ঘটনাটি ফজর আলীকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। ফজর আলী দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং ফজর আলীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি মোছাঃ ফাহমিদা সুলতানা রুনাকে অজ্ঞাত স্থানে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। রুনা বিয়েতে রাজি না হলেও তাকে জোরপূর্বক বিয়ে করবেন নইলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবেন।
পরে ফজর আলী ও পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য স্থানসমূহে রুনাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। কোথাও না পেয়ে মোগলাবাজার থানায় ফজর আলীকে একমাত্র আসামী করে উক্ত মামলা দায়ের করেন। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এখনও আসামীকে আটক করা যায়নি। তবে আসামীকে ধরতে পুলিশ অভিযানে রয়েছে।