
ছাতক প্রতিনিধি ::
রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে ছাতকে যুবদল নেতা সেবুল মিয়ার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের ক্যাডাররা। গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছাতক থানার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ভাতগাঁও গ্রামে মোঃ সেবুল মিয়ার বাড়িতে এ হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
যুবদল নেতার পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় আওয়ামীলীগের অন্তত ২০/২৫ জন কর্মী লাঠিসোটা নিয়ে গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তবে ঘটনার সময় মোঃ সেবুল মিয়া বাড়িতে ছিলেন না। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে প্রতিটি কক্ষ ভাঙচুর করে। ঘরের ভেতরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, এসি ভেঙে ফেলা হয়। এ ছাড়া আলমারিতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা। যাবার সময় বাড়িতে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাড়িজুড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন প্রায় দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নেভালেও বাড়ীর অনেকাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সেবুল মিয়ার পরিবার থেকে জানানো হয়, মো. সেবুল মিয়া ভাতগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাথে তার রাজনৈতিক ও পূর্ব বিরোধিতা রয়েছে। এরই জের ধরে ‘স্থানীয় আওয়ামীলীগের ক্যাডাররা বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আওয়ামীলীগের হামলা ও নির্যাতনের ভয়ে সেবুল মিয়া বাড়িতে থাকেন না, সেটা জেনেও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বাড়িতে লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করেছে। তাৎক্ষণিক তারা সেবুল মিয়াকে বাড়িতে পেলে প্রাণে হত্যা করতো। এমন পরিকল্পনা নিয়েই আওয়ামী ক্যাডাররা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনা জানার পরপরই বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ভাতগাঁও ইউনিয়নের ভাতগাঁও গ্রামে একটি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে ছাতক থানার একটি টিম সেখানে যায়। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। কে বা কারা এই হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’