• ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দক্ষিণ সুরমায় কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীকে অপহরণের পর ‘ধর্ষণ’

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০
দক্ষিণ সুরমায় কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীকে অপহরণের পর ‘ধর্ষণ’

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পিরোজপুরে কলেজ থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১টার দিকে কলেজ থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। ঐ শিক্ষার্থীর নাম রুসনা বেগম। তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকার হরিকলস গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের মেয়ে। সিলেটের নুরজাহান মেমোরিয়াল উইমেন্স ডিগ্রি কলেজের চলিত বছরের এইচএসসি পরিক্ষার্থী। রুসনা বেগম কে অপহরণ করে ৩ দিন একটি আবদ্ধ ঘরের মধ্যে রেখে ধর্ষণ করে রবিন মিয়া নামের এক ব্যাক্তি। পরে ধর্ষক মেয়েটিকে নিয়ে খাদিমপাড়া আবাসিক এলাকার একটি নিরিবিলি রাস্তা দিয়ে গেলে রুসনা বেগম গাড়ী থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যান। তখন ধর্ষক ও সিএনজি চালক এবং সঙ্গে থাকা দুই ছেলে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যায়। এতে রুসনা বেগম অজ্ঞান (অচেতন) হয়ে পড়েন এবং পথচারীদের সহায়তায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।

জানা যায়, ধর্ষক ২৬ বছর বয়সী রবিন মিয়া সিলেট এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ও বর্তমানে সিলেট সদর উপজেলায় বসবাসরত। বিশ্বনাথ উপজেলার তাজমহরম গ্রামের রহুল আমিন মিয়ার ছেলে সে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রুসনা বেগম কলেজে যাতায়াতের সময় ধর্ষক রবিন মিয়া প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। সে সিলেটের স্থানীয় বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের নেতা। একদিন কলেজে যাওয়ার পথে ধর্ষক রবিন মিয়া রুসনা বেগমকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনি রাজি হননি। এরপর থেকে যখনই ঐ শিক্ষার্থী কলেজে যেতেন তখনই ধর্ষক তাকে অশ্লীল ইঙ্গিত করতো। খারাপ প্রস্তাব এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় নানা কথা বলতো।

ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণে জানান, কলেজে যাওয়ার সময় প্রায়ই ধর্ষক রবিন মিয়া আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। একদিন কলেজে ঢুকার সময় সে আমার হাত ধরে টান দেয় এবং আমার ওড়নাও ধরে টানাটানি করে। আমি তার গালে থাপ্পড় দিয়ে আমার স্যারকে জানাই। স্যার এসে তাকে সতর্ক করে বলেন, “যদি তুমি আর একবার রুসনা বেগমকে বিরক্ত করবে তাহলে আমরা তোমার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করবো।” এরপর সেই ছেলে রেগে গিয়ে বলে, “তোর মতো মেয়েকে আমি ছাড়বো না।”
পরে আমি ভয়ে কিছুদিন কলেজে যাইনি। পরবর্তীতে একদিন কলেজে গিয়ে দেখি রবিন মিয়া ঐ এলাকায় নেই। কিন্তু কলেজ থেকে ফেরার পথে দেখি সে একটা ছোট চাকু হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে। এবং আমাকে ডেকে বাজে কথা বলছে। এতে আমি খুব ভয় পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে যাই। আমার মা এরপর থেকে কলেজে যাওয়া নিষেধ করে দেন। অনেকদিন কলেজে যাইনি। কিন্তু ৬ ফেব্রুয়ারী কলেজ থেকে এডমিট কার্ড নিয়ে আসার সময় সকাল ১১ ঘটিকার দিকে সিলেটের পিরোজপুর এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। একটি সিএনজি আসলে যেটিতে শুধু চালক এবং পেছনে একজন ছেলে বসা ছিল। আমি সাধারণ গাড়ি ভেবে উঠে বসি। কিছুক্ষণ পর পেছনের ছেলেটি আমার মুখে রুমাল চাপা দেয়। রুমালে কিছু ছিল যে গন্ধে আমি অচেতন হয়ে পড়ি। পরে
জ্ঞান ফিরে দেখি, আমি একটি ঘরের মধ্যে আছি। গায়ে কোনো কাপড় নেই। শারীরিক অবস্থা দেখে বুঝতে পারি, আমি অচেতন অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হয়েছি। এরপর টানা তিনদিন ওই ঘরে আমাকে মরণভয় দেখিয়ে নৃশংসভাবে রবিন মিয়া ধর্ষণ করে।

তিনি আরো জানান, রবিবার ৯ ফেব্রুয়ারী রাত ১২টার দিকে ওই ধর্ষক রবিন মিয়া ও আরও দুইজন আমাকে সিএনজিতে তোলে এবং সিলেটের খাদিমপাড়া আবাসিক এলাকায় নিয়ে যাচ্ছিল। তখন আমি বুঝতে পারি তারা আমাকে গণধর্ষণ করে হত্যা করবে। সেই ভয়ে আমি চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে যাই।

ভুক্তভোগী ঐ মেয়েটি আরো বলেন, “আমি আবদ্ধ রুমে চিৎকার শুরু করলে হত্যার হুমকি দিয়ে রবিন মিয়া আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমি ঘটনাটি আমি আমার মা কে জানিয়েছি। আমি ধর্ষক রবিন মিয়া ও তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
ঘটনার পর থেকে প্রধান ধর্ষক রবিন মিয়া পলাতক থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নিজাম উদ্দিন তরফদার এর মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।