• ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেটের বিভিন্নস্থানে হামলা-ভাঙচুরের আরো খবর

admin
প্রকাশিত আগস্ট ৭, ২০২৪
সিলেটের বিভিন্নস্থানে হামলা-ভাঙচুরের আরো খবর

স্টাফ রিপোর্টারঃ
৫ আগস্ট ২০২৪। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা যখন পালিয়ে ভারতে যান, তখন সারা দেশের মতো সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় আওয়ামীলীগ বিরোধী বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র, জামায়াত-শিবির এবং ছাত্রদল-বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাছাড়া গোয়ালাবাজার এলাকারও বিভিন্নস্থান এ হামলার অভিযোগ উঠেছে।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নোমান আহমদ লাকী, মোগলাবাজার এলাকার আব্দুস সালাম এর ছেলে ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, লালাবাজার এলাকার আব্দুল গনী এর ছেলে ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মোঃ নাজমুলহুদা তারেক এবং গোয়ালাবাজার এলাকার পশ্চিম ব্রাহ্মন গ্রামের মোঃ আব্দুর রব খাঁন এর ছেলে ছাত্রলীগ নেতা ফেরদৌস আহমদ খাঁন, ওসমানী নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আহমেদ আম্বিয়া সহ এলাকার অনেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর বাড়ীতে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। অনুসন্ধানে এসেছে এসব তথ্য।

জানাযায় গত ৫ই আগস্ট সন্ধ্যা ৭ ঘটিকার দিকে ২০/২২ জন শিবির ও ছাত্রদলের কর্মীসহ ছাত্রজনতা ছাত্রদল-বিএনপির কর্মীরা দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নোমান আহমদ লাকী এর বাড়ীতে ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় আওয়ামীলীগ বিরোধী ছাত্রজনতা।

পরবর্তীতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্তমান যুক্তরাজ্য প্রবাসী আরিফুল ইসলাম এর বাড়ীতে হামলা হয়। তার বাড়ী সিলাম ইউনিয়নের সরকার চাক গ্রামে। আরিফুল ইসলাম এর মাতা সমরোন নেছা বলেন, আমার বাড়িতে ৫ই আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে আট ঘটিকার দিকে ১০/১২ জন বিএনপি ও জামায়াত-শিবির এবং বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কতিপয় ছাত্রজনতা হামলা চালায়। তখন বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে স্বর্ণ ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়। হামলায় তিনি আহত হন বলে জানান।

এ ঘটনার পর সিলাম ইউনিয়নে ব্যপক উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মোঃ নাজমুলহুদা তারেক এর চাচা আব্দুল হাই অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাতিজা ও তার পরিবার রাজনীতি করার অপরাধে তাদের বাড়ীতে ৫ই আগস্ট রাত ১০ ঘটিকার দিকে ও ৬ আগস্ট দুপুরে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও হামলা চালায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তাদের হামলায় আমার ভাতিজা মোঃ নাজমুলহুদা তারেক কে রক্তাক্ত জখম করে। তিনি বলেন বাড়ীতে ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট ও ক্ষতিসাধন হয়েছে।

অন্যদিকে গোয়ালাবাজার এলাকার পশ্চিম ব্রাহ্মন গ্রাম এর ছাত্রলীগ কর্মী ফেরদৌস আহমদ খাঁন এর বাড়ীতে ৬ আগস্ট রাত ৮ ঘটিকার দিকে হামলা হয়। হামলায় তিনি আহত হন। এতে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

পশ্চিম ব্রাহ্মন গ্রামের এলাকাবাসী জানান, ফেরদৌস আহমদ খাঁন রাজনীতি করার কারনে প্রতিহিংসার শিকার। এ কারণেই জামাত-শিবিরের একদল সন্ত্রাসী তাদের বাড়ীতে হামলা ও ভাঙচুর হওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে জানন।

তার ভাই মোঃ রেজাউল করিম খাঁন রাজু অভিযোগ করে বলেন, আমার ছোট ভাই (ফেরদৌস আহমদ খাঁন) ছাত্রলীগ করার কারণে তার বাড়ীতে এ হামলা হয়েছে। তিনি জানান, হামলাকারীদের বাধা প্রদান করিলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ভাইকে ও আমাকে আহত করে। তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর আহত অবস্থায় থানায় গেলে সেখানে কোন কর্মকর্তা না পেয়ে অভিযোগ করতে পারেন নি। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে জানতে সিলেট এসএমপি কমিশনার এর মুবাইল ফোনে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও কিছু আওয়ামীলীগ বিরোধী দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন দোকান ও বাড়িতে হামলা এবং লুটপাট করতেছে। থানায় পুলিশের অনুপস্থিতি ও প্রশাসনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন লোককে ভয়-ভীতি দেখিয়ে হামলা, লুটপাট ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে প্রতিদিনই। এসব থেকে মুক্তি চান সাধারণ মানুষ।

তথ্য সূত্র : দৈনিক শ্যামল সিলেট।