• ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিজিবি-চোরাকারবারি সংঘর্ষের দিন নিখোঁজ, টাঙ্গুয়ার হাওরে মিলল লাশ

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ৪, ২০২৫
বিজিবি-চোরাকারবারি সংঘর্ষের দিন নিখোঁজ, টাঙ্গুয়ার হাওরে মিলল লাশ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ওমর আলী নিখোঁজের পর তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামের পাশে টাঙ্গুয়ার হাওরের বেরবেইরা বিল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার রাতে চোরাই গরু আটকে বিজিবির অভিযানের বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সে রাতে অভিযানের সময় বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়েছে। সেখানকার একটি ট্রলারে শ্রমিকের কাজ করতেন ওমর আলী। তিনি বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। রোববার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
একটি সূত্র জানায়, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গরুবাহী দুটি নৌকা মহিষখলা সীমান্তের বাঙালভিটা বিওপির টহল দলের নজরে এলে তারা চ্যালেঞ্জ ছোড়ে। এ সময় একটি ট্রলার নিয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলেও অন্য ট্রলারে থাকা গরু জব্দ করে বিজিবি। এ সময় নৌকায় থাকা চোরকারবারিদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় গোলাগুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কয়েকজন জানান, এ বিষয়ে বিজিবি সেদিন বিবৃতি বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়নি। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মেলেনি সদুত্তর। তবে সোমবার সন্ধ্যায় বিজিবি মধ্যনগর থানায় চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। এদিকে ওমরের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর দেখা যায়, লাশের গায়ে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। অনেকেরই ধারণা, এটি গুলির ক্ষত।
মধ্যনগর থানার ওসি মনিবুর রহমান বলেন, মরদেহে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ান (২৮) বিজিবির অধিনায়ক এ কে এম জাকারিয়া কাদির জানান, ওইদিন শতাধিক চোরাকারবারি দলবদ্ধ হয়ে বিজিবির টহল দলকে ঘেরাও করে ইট, পাথর ও বল্লম নিক্ষেপ করতে থাকে। গাদা বন্দুক থেকে বিজিবিকে লক্ষ্য করে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলিও ছোড়া হয়। এতে বিজিবি নায়েক আখিরুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হন। পরে আত্মরক্ষার্থে বিজিবি চোরাকারবারিদের লক্ষ করে গুলি চালায়।

ওই বিজিবি কর্মকর্তা আরও জানান, হাওর থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি সেদিনের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির কিনা– তা তদন্তের পর জানা যাবে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।