
মোগলাবাজার প্রতিনিধিঃ
মোগলাবাজার উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মোঃ হেলু মিয়ার পুত্র ছাত্রলীগ নেতা মোঃ জাকির আহমদকে গ্রেফতার করতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অদ্য বিকাল ৩.৪৫ ঘটিকার দিকে মোগলাবাজার থানা পুলিশের সহযোগিতায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ এই অভিযান চালায়। মোঃ জাকির আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ছিলেন। অভিযানকালে পুলিশের সাথে স্থানীয় এবং দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার উপজেলার বেশ কয়েক জন ছাত্রদল, ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতা জাকিরের পিতা মোঃ হেলু মিয়া অভিযোগ করেন, পুলিশ বাড়িতে ঢুকে জাকিরকে খুঁজতে থাকে। জাকির ঘরে নেই জানালে তারা তল্লাশির নামে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে এবং পরিবারের সদস্যদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে তিনি প্রতিবাদ করলে পুলিশ তাকে মারধর করে আহত করে এবং বলে জাকির কোতোয়ালি জি.আর- ৪২৭/২০২৪ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করতে তারা এসেছে। এই সময় পুলিশের সাথে থাকা স্থানীয় এবং দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার উপজেলা ছাত্রদল, ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ছেলে জাকিরকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে উল্লেখিত মামলায় আসামী করা হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় এবং উপজেলা ছাত্রদল, ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা প্রায়ই বাড়িতে এসে তাদেরকে ভয়-ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে তারা বর্তমানে চরম আতংক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। উল্লেখ্য বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চলতি বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী বিদেশে পালিয়েছেন এবং অনেকে দেশের অভ্যন্তরে আত্নগোপনে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। জাকিরের বিরুদ্ধেও কোতোয়ালি থানায় মামলা রয়েছে। এই বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, আওয়ামীলীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের গ্রেফতার করতে তাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জাকির আহমদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।