• ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

উপশহর ২২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতার বাসায় হামলা পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি, এলাকায় আতঙ্ক

admin
প্রকাশিত আগস্ট ১৯, ২০২৪
উপশহর ২২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতার বাসায় হামলা পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি, এলাকায় আতঙ্ক

নগরীর উপশহর ২২ নম্বর ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক খুটির সাথে যুবলীগ নেতা মুহাইমিন চৌধুরী নাছিমের ছবিসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার।


নিজস্ব প্রতিবেদক
উপশহর এলাকার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে যুবলীগ নেতা মুহাইমিন চৌধুরী নাছিম বাসায় হামলা ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ১৬ আগস্ট ২০২৪ গভীর রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছে। ১৫ আগস্ট ২০২৪ দুপুর বেলা শোক দিবস পালন করার উদ্দেশ্যে এলাকার মসজিদ সংলগ্ন বৈদ্যুতিক খুটির সাথে নিজের ছবি সহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার টাঙানোর কারনে এই ঘটনাটি ঘটায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপশহর ২২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক (মুহাইমিন চৌধুরী নাছিম ) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত তার বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে জানালা ও দরজার কাচ ভাঙচুর করে।
হামলার সময় বাড়িতে ওই যুবলীগ নেতা ছাড়াও তার , দুই ভাই বোন এবং মা উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলাকারীরা বাইরে থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং বাড়ির সবাইকে হত্যা করার হুমকি দেয়। এতে পরিবারের সদস্যরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত আশপাশের প্রতিবেশীদের ফোন করে বিষয়টি জানান।
প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে যাওয়ার সময় তারা আবারও ফিরে এসে “পরিবারসহ মেরে ফেলা হবে” বলে হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী যুবলীগ নেতা সাংবাদিকদের জানান, “আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো বিরোধের কারণে আমার পরিবারকে এভাবে টার্গেট করা হবে, তা কখনো ভাবিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাটি পরিকল্পিত এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ঘটানো হয়েছে। তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি। তার দাবি, স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “রাতের সেই মুহূর্তগুলো আমরা কোনোদিন ভুলতে পারব না। দরজায় আঘাত, জানালা ভাঙার শব্দ আর বাইরে থেকে হত্যার হুমকিÑসব মিলিয়ে আমরা ভেবেছিলাম আর বাঁচব না। সন্তানদের বাঁচাতে আমরা সবাই একসঙ্গে একটি ঘরে লুকিয়ে পড়েছিলাম।”
এদিকে স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এটি শুধু একজন নেতার ওপর হামলা নয়, বরং পুরো এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উপশহর ওয়ার্ড যুবলীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, “রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে পরিবারকে টার্গেট করে হামলা ও হত্যার হুমকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা আগেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এই হামলার পর সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতে আমরা সবাই ভয়ে ছিলাম। যদি তারা ভেতরে ঢুকে পড়ত, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হোক।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। পরিবারকে হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এ ঘটনায় উপশহর এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন থাকলেও মানুষের মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবাই আশা করছে, দ্রুত বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ধরনের সহিংসতা ও হুমকির রাজনীতি বন্ধ হবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।