• ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ২৭, ২০২৬
সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বজ্রপাতে মারা গেছেন ৫ কৃষক। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। একইদিনে দেশের আরও দুই জেলায় বজ্রপাতে মারা গেছেন আরও ৪ কৃষক। সবমিলিয়ে একদিনে বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে জেলার পৃথক স্থানে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। একই সময় সদর উপজেলার হাওরের অন্য একটি স্থানে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া, শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আরও তিনজন কৃষক আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শফিক বলেন, বজ্রপাতে আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম-সংলগ্ন গড়দার হাওরে এবং বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষক নিজ জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লার ছেলে।

এ ছাড়া, বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুস সালাম (৩৫) বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা মান।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত মকছুদ আলীর পরিবারটি দরিদ্র। তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোণা

নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে বজ্রপাতে নিহতের এসব ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট (ফেরি) এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বাগবেড় গ্রামের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী মুজিবুর রহমান জানান, সকালে তারা তিনজন খালিয়াজুরীর ধনু নদে বরশি দিয়ে মাছ ধরতে যান। হঠাৎ বজ্রপাত হলে আব্দুল মোতালিব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়ে।

অন্যদিকে, উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরের ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক। তিনি ওই গ্রামের নেকবর খাঁর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ধান শুকানোর সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা যান।

এ ছাড়া, বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার আকনাদিঘির চর এলাকায়।

এ বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যু বজ্রপাতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে দুজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরেকজনের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নোয়াখালী

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত হোসেন মৃত আফছার মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন এবং পাশাপাশি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ারুল আজিম বলেন, আরাফাত আজ দুপুরে বাদাম শুকাতে দিয়েছিলেন। বৃষ্টি শুরু হলে সেই বাদাম আনতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।