
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চিহ্নিত চাঁদাবাজরা এখন খোলস পাল্টে অপকর্ম করছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা, এখন বিএনপির নেতা ও কর্মীতে রূপান্তরিত হয়ে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে নিরীহ জনসাধারণকে। চাঁদার টাকা না দিলে নিরীহ ব্যবসায়ীসহ সাধারণ লোকজনের উপর নেমে আসে নির্যাতনের স্টীমরোলার। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বনাথ পৌরসভা, থানা সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ব্যবসায়ীদের উপর হামলা, চাঁদাবাজি ও দোকান দখলের বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকার কিছু চিহ্নিত রাজনৈতিক নেতা রাতারাতি তাদের খোলস পাল্টে এখন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের সঙ্গে আঁতাত করে রাজনীতির নামে লুটতরাজ চালিয়ে গেলেও ভয় এবং আতংকে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না। বর্তমানে বিশ্বনাথ পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারগুলি খুবই অনিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বাজারগুলিতে তাদের নিজ নিজ বলয় থেকে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, অতীতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র যারা তৎকালীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত থেকে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়েতো, তাদের দাপটে সাধারণ ব্যবসায়ীরা তটস্থ থাকতে হতো। এতে নেতৃত্ব দিতেন আওয়ামী লীগ নেতা এস.এম. নুনু মিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান এবং তাদের সহযোগী আব্দুর রহিম, জালাল আহমদ এবং আমির আলী। তাদের নিজেদের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিভিন্ন হাটবাজারে চাঁদাবাজি ও দখল কার্যক্রম পরিচালনা করত। এসব চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্রের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নামধারী জনৈক মিছবাহ উদ্দিন, রুবেল আহমদ, কামরুল ইসলাম, ফরহাদ আহমেদ ও সোহেল আহমদ নামের কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এখন এসব চিহ্নিত চাঁদাবাজ তাদের খোলস পাল্টে বিএনপি’র সাথে আঁতাত করে নানারূপ অপকর্ম করে যাচ্ছে।
নিরীহ ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে আবারও একটি দল সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যেখানে বিএনপি সমর্থক ফরিদ উদ্দিন ও শাহীন আহমেদ এবং তাদের সহযোগীদের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল ইসংলাম ও ফজলে নূর, রুহেল আহমেদ জনি-এর নামও আলোচনায় এসেছে বলে জানা যায়, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একদল ব্যক্তি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন সশস্ত্র সহযোগী নিয়ে বিশ্বনাথ নতুন বাজারে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা একাধিক দোকানে ভাঙচুর করে এবং কিছু দোকান দখলের চেষ্টা চালায়।
সন্ত্রাসীরা ঐ বাজারের একজন শারিরীক প্রতিবন্দ্বি দোকান মালিক জনৈক আফাজ মিয়াকে জোরপূর্বক দোকান থেকে বের করে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী হামলাটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয় এবং এতে একাধিক ব্যক্তি অংশ নেয়। যার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। সকলেই খুবই ভীতসন্ত্রস্থ ও নিরাপত্তাহীনতা রয়েছেন। এই ঘটনার পর বাজার কমিটির সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশের এই নীরব ভূমিকা নিয়ে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে দোকানপাট দখল করা হলেও এর প্রতিকারে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ব্যবসায়ীদের অভিমত, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। মব সন্ত্রাসের ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা আতংকিত রয়েছেন। এসব অপরাধের সাথে নতুন করে নারী ধর্ষণ, বলাৎকারের ঘটনাও অহরহ বেড়ে যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রত্যেকটি বাজার এলাকায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।