নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার শেরপুর রোড সংলগ্ন বাংলা টাউন এলাকায় ছাত্রলীগের তিন নেতার বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, মঙ্গলবার ৬ আগস্ট ও বুধবার ৭ আগস্ট রাতে দফায় দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে শান্তিনগর গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা হাসান সরকার এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু ছাত্রলীগ নেতা রাকেস দাসের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরে রাকেস দাসের একটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত-শিবির ও ছাত্রদলের কর্মীরা এ হামলায় জড়িত।
এরপর বুধবার রাতে নতুন করে হামলা শুরু হয়। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের একদল নেতাকর্মী প্রথমে বাংলা টাউনে অবস্থিত যুবলীগ নেতা কাশেম চৌধুরীর বাড়িতে তার চাচাতো ভাই ছাত্রলীগের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জামাল চৌধুরীর দোকানে (শেরপুর রোডের দোকানে) শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে মালামাল তছনছ করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে দোকানের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
একই রাতে হামলাকারীরা দত্তগ্রাম এলাকার (গ্রামের) কাশেম চৌধুরীর বাড়িতে তার চাচাতো ভাই জামাল চৌধুরীর বসতঘরেও হামলা চালায়। আলমারি ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বসতঘরেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। নবীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও সমাজসেবক আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, “মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু এর জেরে বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া অমানবিক ও সন্ত্রাসী কাজ। এলাকার শান্তি রক্ষায় অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সংখ্যালঘু ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে যারা মব তৈরি করেছে, তাদেরকে রুখে দিতে হবে।”
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ তিনজনের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে।”
হামলার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ছাত্রলীগ নেতা হাসান সরকার ও রাকেস দাস বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা জামাল চৌধুরী ও তার চাচাতো ভাই যুবলীগ নেতা আবুল কাশেম চৌধুরী এলাকাছাড়া হয়ে পলাতক অবস্থায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। দত্তগ্রাম, শান্তিনগর এলাকাসহ আশপাশের এলাকা গয়াহরি ও রাজাবাদে সনাতনধর্মের একাধিক ছাত্রলীগ পরিবারের উপর হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গয়াহারী গ্রামের মন্ডল পুঞ্জ, সাকের দাস ও রাজাবাদ গ্রামের সুমন দেবনাথ এর বাড়ী।