সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

ডেইলি বাংলার আলো ::
প্রকাশিত July 8, 2026
সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

গত রাত থেকেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। বইষ্ট অব্যাহত থাকতে পারে আরও। এতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ফলে পুরো সিলেট বিভাগে আকষ্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেবল সিলেট নয়, দেশের দেশের চারটি বিভাগেই বন্যা হতে পারে।

এদিকে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস সিলেটের সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানিয়েছেন, সিলেটে মঙ্গলবার সকাল ৬ টা থেকে বুধবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ৫২.৬ মিলিমিটার, সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৩২ মিলিমিটার ও সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সূত্র বুধবার জানিয়েছে, সিলটেসহ চার বিভাগে বন্যা হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে প্রায় তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। এ বৃষ্টি চলতে পারে আগামী শনিবার পর্যন্ত।

এর প্রভাবে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি বেড়ে গেছে। বৃষ্টিতে কিছু নদীর পানি আরও বেড়ে যেতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান আজ প্রথম আলোকে বলেন, যে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা তিন দিন থাকতে পারে। এর পর থেকে, অর্থাৎ শনিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

তবে বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদীর পানিই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ উজান এলাকায়ও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতীয় উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তা নদী আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে সুরমা-কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, দুধকুমার, ধরলাসহ কয়েকটি নদীর পানিও দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।