
স্টাফ রিপোর্টার : গুলশান থানাধীন দক্ষিণ বাড্ডা এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকসহ অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় মাদক সম্রাজ্ঞী মহিলা আওয়ামী লীগ কর্মী রুবিনা আক্তার সম্পা ও তার বাহিনীর নির্মম আঘাতে প্রাণ হারালেন ২১নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি সালাহ উদ্দিন। ঘটনাটি সংঘটিত হয় গতকাল ১১ আগস্ট ২০২০ ইংরেজী রাত অনুমান ১১ ঘটিকায়। নিহত যুবলীগ সভাপতি সালাহ উদ্দিন গুলশান থানাধীন দক্ষিণ বাড্ডা এলাকার মৃত রফিকুল এর পুত্র। এ ব্যাপারে নিহত যুবলীগ নেতা সালাহ উদ্দিনের ভাই আলা উদ্দিন বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫জনকে অভিযুক্ত করে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১নং আসামী রুবিনা আক্তার সম্পা ২১নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হওয়ায় দলের নাম ভেঙ্গে এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক দ্রব্যসহ অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা করে আসছিলেন দীর্ঘদিন যাবৎ। তার উগ্র কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ কোনরূপ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। তার এসব কর্মকান্ডে এলাকায় বিভিন্ন ধরণের গুঞ্জন ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে। বিষয়টি নিয়ে যুবলীগ নেতা সালাহ উদ্দিন গত ১১ আগস্ট রাত অনুমান ১১ ঘটিকায় রুবিনা আক্তার সম্পার দক্ষিণ বাড্ডাস্থ ১০১/১ নং বাসায় গিয়ে তাকে এসব অনৈতিক কর্মকান্ড পরিহার করে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহবান জানানোর সাথে সাথে তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় রুবিনা আক্তার সম্পা ও তার সকল অপকর্মের সহযোগী আরও ৪/৫জন সালাহ উদ্দিনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে তিনি স্টিলের দরজার ফ্রেমের মধ্যে পড়ে মাথা ফেটে মগজ বের হয়ে যায়। এ সময় রুবিনা আক্তার সম্পার নির্দেশে তার সহযোগীরা সালাহ উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। তার সহযোগী চুইল্লা বাবুর শোর-চিৎকারে আশপাশ লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত সালাহ উদ্দিনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত অনুমান ৩ ঘটিকায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করতঃ ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করে পরিবারের নিকট সমজিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা সালাহ উদ্দিনের ভাই আলা উদ্দিন বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামীরা হচ্ছেন- রুবিনা আক্তার সম্পা, স্বামী- শাহাদত হোসেন, আবুল হোসেন, পিতা- মৃত আহমদ হোসেন, উভয় সাকিন- বাসা নং- ১০১/১, দক্ষিণ বাড্ডা, তুহিন আহমদ, পিতা- শাহজাহান মিয়া, সাং বাসা নং- ১০৭/১, দক্ষিণ বাড্ডা, রাসেল শিকদার, পিতা- সেলিম শিকদার, আওলাদ হোসেন, পিতা- মৃত মনোয়ার হোসেন, উভয় সাং ১০৫/১ দক্ষিণ বাড্ডা, সর্ব থানা- গুলশান, ডিএমপি, ঢাকা-১২১২সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫জন।