• ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

চট্টগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি : মানুষের জান-মালের কোনো নিরাপত্তা নেই

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
চট্টগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি : মানুষের জান-মালের কোনো নিরাপত্তা নেই

স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। বাড়ছে খুনখারাবি, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, রাহাজানি, লুটতরাজের মতো ঘটনা। পথে-ঘাটে হানা দেওয়ার পাশাপাশি বাসায়ও হানা দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ফলে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অভাববোধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে একের পর এক নানা ধরনের অপরাধ ঘটে চলেছে। ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি থেকে খুন, ধর্ষণও হচ্ছে অবলীলায়। সারা দেশে চলমান ‘ডেভিল হান্ট’ কর্মসূচির মধ্যেও থেমে নেই অপরাধচক্রের এসব অপকর্ম। প্রকাশ্যে, জনারণ্যেও এসব ফৌজদারি অপরাধ ঘটছে। অপরাধীরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না; বরং দিনে দিনে তারাও আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অব্যাহত এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী দিনরাত পরিশ্রম করে কোন উন্নতি ঘটাতে পারছেনা। প্রতিদিন পত্রিকায় পাতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি হুহু করে একের পর একটি ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। বিশেষকরে শিল্পনগরী চট্টগ্রাম অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সমগ্র দেশে হামলা হয়। অস্ত্র, গোলাবারুদ লুট হয় বিভিন্ন থানা দখল করে। কয়েকটি কারাগারেও হামলা হয়। অস্ত্র লুটের পাশাপাশি অনেক অপরাধীও বের হয়ে যায়। বিশেষকরে যারা খুন, ধর্ষণ এবং ডাকাতি করে যাবজ্জীবন কারাভোগ করেছিল, তারাও বের হয়ে আসে। যার কারণে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অপরাধিরা বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যোগ দিয়ে অবলীলায় পূর্বের ন্যায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর মানুষজন ঘর থেকে বের হয়না। অজানা অচেনা এক ভয় বিরাজ করছে মানুষের মনে। অন্তবর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে লক্ষ লক্ষ্ লোক বেকারত্ব বরণ করতে হচ্ছে। তার মূল কারণ অনেক কল-কারখানা, গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের মনে হতাশা বিরাজ করছে। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো দু’বেলা ভাত সঠিকভাবে খেতে পারছেনা। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অন্তবর্তী সরকারের জন্য প্রধান দায়িত্ব হলেও সরকার এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ স্বস্তি চায়। তাছাড়া অভিভাবকরা আজ চরম দিশেহারা। একজন অভিভাবক চান তার ছেলেমেয়ে যেনো নিরাপদে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে লেখাপড়া করার সুযোগ পায়। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। প্রতিদিন মিছিল-মিটিং নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিবেশকে কুলুষিত করছে। অভিভাবকগণ তাদের ছেলেমেয়েকে বিশ্ববিদ্যালযয় পাঠিয়ে চরম উৎকন্ঠায় জীবন অতিবাহিত করছেন। দিন দিন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম নিম্ন থেকে নিম্নমুখী হচ্ছে। দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্ গত ২৫/০১/২০২৬ ইং টেলিভিশনের এক সাক্ষাতকারে বলেছেন দেশের অর্থনীতি যেভাবে নিম্নমুখী হচ্ছে, তা অদূর ভবিষ্যতে শ্রীলংকার মত দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশ বর্তমানে এক চরম অর্থনৈতিক সংকট অতিবাহিত করছে। এ অবস্থার হাত থেকে মুক্তি পেতে অন্তবর্তী সরকার গঠনমূলক পদক্ষেপ না নিলে দেশের বৃহত্তম শিল্পনগরী ও বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রাম যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ টন পণ্যসামগ্রী রপ্তানী করে তাদের কর্মীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিশ্বের অন্যতম বন্দরনগরী বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশিষ্টজনদের মতে দেশে যে চলমান পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা যদি বন্ধ না করা হয়, তাহলে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, দিনাজপুর, যশোর, ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরগুলি একটি অকার্যকর শহর হিসেবে পরিণত হবে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। মানুষ স্বস্তি চায়। নিরাপদে মানসম্মান নিয়ে বাঁচতে চায়। তাদের সেই পরিবেশ দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কাজেই সারা দেশে পুলিশি কর্মকাণ্ড দ্রুত স্বাভাবিক রাখা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক না করতে পারলে দেশে চরম অশান্তিসহ অচিরেই দুর্ভিক্ষের দিকে ধাবিত হবে।