
সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫৪ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগজুড়ে ৩৩৬ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পাঁচ মাস শিশু। তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অপরজন সুনামগঞ্জ জেলার আট মাস বয়সী শিশু। তিনিও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হাম আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪ জন শিশু মারা গেলো।
শনিবার (১৬ মে) সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১৪৯ জনের হাম ও রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ১৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ৭৫ জন এবং সিলেট জেলায় ৪২ জন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগী রয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ল্যাব কনফার্ম রোগী শনাক্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৫৪ জনের মধ্যে ৩২ জন ভর্তি হয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং ২২ জন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৩৩৬ জন সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে ১২৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ৭৪ জন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ২ জন উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতাল, সিলেটে, ১ জন আল হারামাইন হাসপাতাল, সিলেটে, ১০ জন লায়ন্স শিশু হাসপাতাল, সিলেটে, ৬ জন রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ৪ জন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে, ৬ জন নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৪ জন পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এ ছাড়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন—ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৯ জন, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। সব মিলিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।