ওসমানীনগরে মবরুরের লুটপাট, দখলবাজি চলছেই,  দেশান্তরী মওদুদ, আরেক ভাই উন্মাদ

ডেইলি বাংলার আলো ::
প্রকাশিত May 1, 2026
ওসমানীনগরে মবরুরের লুটপাট, দখলবাজি চলছেই,   দেশান্তরী মওদুদ, আরেক ভাই উন্মাদ

বাংলার আলো ডেস্ক :::::::: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ‘সেই যুবলীগ’ নেতা মবরুর লেবাস পাল্টে ফেলেছেন। তিনি এখন বিএনপির ত্যাগী নেতা। এই পরিচয়ে এবং তার দুই ভাই হেফাজত নেতার প্রশ্রয়ে তিনি ওসমানীনগরে তার ত্রাসের রাজত্ব কেবল ধরেই রাখেন নি, বরং সমৃদ্ধ করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে আসে তার সাম্প্রতিক অপতৎপরতা ও দখল বাণিজ্যের গল্প। এমন কি তার আপন চাচা এবং চাচাত ভাইয়েরাও তার বিষাক্ত ছোবল থেকে রক্ষা পাননি। একসময় যে মবরুর আওয়ামী যুবলীগ নেতা পরিচয়ে গোটা এলাকা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, সেই তিনিই এখন লেবাস পাল্টে বিএনপি যুবদলের ত্যাগী নির্যাতিত নেতা হিসাবে এলাকায় নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন।

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি সবচেয়ে বড় ছোবলটি মেরেছেন তার আপন চাচা মাওলানা আব্দুল মালিক এবং তার ছেলেদের বুকে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মবরুর যুবলীগ নেতা হিসাবে ফ্যাসিস্ট আমলে প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় ওসমানীনগরে দখলবাজী ও চাঁদাবাজীর যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন, ৫ আগস্টের পর তার থেকে মুক্তি মিলেনি জনগনের। বরং তার সেই রাজত্ব এখন আরও সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত হচ্ছে। অন্তবর্তী সরকারের আমলে তাকে বিএনপি নেতা হিসাবে প্রমাণ করা হয়েছে ইতিমধ্যে। হাসিনার পতনের ঠিক আগ মুহুর্তে দু’একটা মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি এখন রীতিমতো যুবদলের একনিষ্ঠ ত্যাগি ও নির্যাতিত নেতা হয়ে উঠেছেন। এক্ষেত্রে তার প্রধান অবলম্বন, তার পিতা- উপজেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস ছমির ও তার অপর দুই ভাই মারুফ আহমদ এবং মাওলানা মাহবুব আহমদ। মূলতঃ তাদের প্রত্যক্ষ মদদে তার এই দখল বাণিজ্য।

জানা গেছে, অন্তবর্তী সরকারের আমলে পুলিশের নিস্ক্রিয়তার সুযোগে আব্দুল বাসিত মবরুর প্রথম ছোবলটি মেরেছিলেন তার আপন চাচা মাওলানা আব্দুল মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের বুকে।

২০২৩ সালে মাওলানা আব্দুল মালিকের ছেলে হাফিজ আব্দুল হক মওদুদের স্থানীয় জালালপুরের একটি দোকান এবং একটি মার্কেট তিনি দখল করে নিয়েছিলেন। ৫ আগস্ট বিকালে তার মোবারকপুরের বাড়িতে উগ্রবাদীদের নিয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপটের মাধ্যমে একেবারে নিঃস্ব করে ছাড়েন। কিন্তু এরপরও তিনি নিবৃত্ত হননি। বরং নতুন উদ্যমে নানান অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মওদুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর চালাচ্ছেন নির্যাতনের স্টিম রোলার।

মাওলানা আব্দুল মালিক নিজের সম্পত্তি উদ্ধারে আইনী প্রতিকার গ্রহণ করতে তৎপর হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৯ জানুযারি মাওলানা মাহবুব আহমদের নেতৃত্বে বিএনপি- হেফাজতের অর্ধশত নেতাকর্মী আবারও মহওদুদের বাড়িতে হামলা করে। এসময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মওদুদের পিতা মাওলানা আব্দুল মালিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন তার ভাই নুরুল হক। এক সপ্তাহ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আব্দুল বাসিত মবরুর ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্ঠা হুমায়ুন কবিরের সাথে তাদের দহরম মহরম সম্পর্কের সুবাদে এলাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। এখনো তারা প্রকাশ্যে মওদুদকে হত্যার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।

২৫ ফেব্রুয়ারি মবরুর ও তার পিতার প্ররোচনায় র‌্যাবের সদস্যরা মওদুদের বাড়িতে অভিযান চালায় এবং তার স্ত্রী সামিয়া হুর মারজিয়াকে বাড়ির দলিল দেখাতে বললে তার পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। র‌্যাব সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে অবিলম্বে বাড়ি না ছাড়লে গুরুতর পরিণতির হুমকি দেন বলেও জানা গেছে। ২৭ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে নুরুল হক বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে তিনি বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বেঁচে আছেন।

অমানবিক নির্যাতনের কাহিনী এখানেই শেষ নয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল মবরুরের প্ররোচনায় একদল পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়, মওদুদ রাষ্ট্রবিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত। তাকে পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। ২৩ এপ্রিল আবারও মওদুদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িটি শতভাগ দখল করে নেন মবরুর ও তার পরিবারের সদস্যরা। মওদুদের অসহায় স্ত্রী ও সন্তানরা এখন তার আত্মীয়দের বাড়িতে বাস করছেন। আর ভাই উন্মাদ নুরুল হকের খবর কেউ জানেনা।

তাদের এতসব অপকর্মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মবরুরের বক্তব্য জানতে চাইলে তার পরিস্কার কথা, এসব সত্য নয়। প্রতিপক্ষের রটানো।

বারবার চেষ্টা করেও এ ব্যাপারে তার পিতা আব্দুছ ছমিরর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বিএনপিতে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজের কোনো স্থান নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।