ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধে যে নির্দেশনা দিলেন হাইকোর্ট

ডেইলি বাংলার আলো ::
প্রকাশিত September 14, 2026
ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধে যে নির্দেশনা দিলেন হাইকোর্ট

ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে পুলিশ অফিসারদেরকে সেন্ট্রাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করা এবং পুলিশের আইজিপিকে এ বিষয়ে সার্কুলার ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রায় দেন।

রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে বিরোধী পক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করার বিষয় বিভিন্ন মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশিত হলে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ২০১৩ সালে একটি রিট দায়ের করে।

এ রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি আদালত ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি রুল জারি করেন।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, আদালত আদেশে বলেন যে, পুলিশ কর্মকর্তা কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গেলে কেন্দ্রীয় ডাটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে সত্যতা যাচাই করে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে আদালত পুলিশের মহাপরিচালককে আদালতের নির্দেশনা উল্লেখ করে সার্কুলার ইস্যু করে সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত অপর এক আদেশে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেলকে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, সকল নিম্ন আদালতের বিচারক যেমন জেলা জজ, মহানগর জজ, সিজেএম, সিএমএমসহ সকল বিচারকের নিকট নির্দেশনা পাঠাতে যাতে যে কোনো নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী এবং আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আইনজীবীর প্রফেশনাল কার্ড এবং বাদীর এনআইডির কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

আদালত রায়ে বলেন, যে কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের যে বিধি-বিধান রয়েছে তা অনুসরণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন নতুবা আইনের ব্যত্যয় হবে। অন্যদিকে ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলে একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হয়, যেটা নিশ্চিত করা সকল শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। রায়ে আদালত আরও বলেন, আদালতের মাধ্যমে মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সে কারণেই কোনো মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে এবং গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত প্রয়োজন নতুবা নাগরিকের যে ক্ষতি হয় তা পূরণ করা সম্ভব হয় না।