মৌলভীবাজারের জুড়িতে চলছে চাঁদাবাজদের মহোৎসব, চাঁদাবাজরা খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি-জামাতের সাথে আঁতাত : নিরীহ লোকজন দিশেহারা

ডেইলি বাংলার আলো ::
প্রকাশিত July 5, 2026
মৌলভীবাজারের জুড়িতে চলছে চাঁদাবাজদের মহোৎসব, চাঁদাবাজরা খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি-জামাতের সাথে আঁতাত : নিরীহ লোকজন দিশেহারা

নিজস্ব প্রতিবেদক,জুড়ি থেকে:
মৌলভীবাজারের সর্বত্র এখন চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব।জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে জুড়ি উপজেলাটি এখন সম্পূর্ণরূপে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে চলছে।প্রশাসনও চলছে এসব অপরাধীদের কথায়।জুড়ি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারসহ গ্রামের ছোটবড় বাজারগুলির নিয়ন্ত্রণ করছে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজরা। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা বিভিন্ন অপরাধ-অপকর্মে জড়িত ছিল, তারাও এখন বিএনপি-জামাত ও এনসিপিতে যোগ দিয়ে নির্দ্ধিদায় চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধমূলক কাজ।অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষও তাদের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে পড়েছেন।
এদেশের মানুষ এমন পৈশাচিক ঘটনা পূর্বেও কখনও উপলব্ধি করতে না পারলেও ৫ আগস্ট-২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাথে সাথে অপরাধী চক্র আরও মারাত্মকভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কথায় কথায় চোখ রাঙানি, জায়গা-জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জবর দখল এখন নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা হিসাবে রূপ ধারণ করেছে। নিরীহ লোকজন শুধু চোখ বুঁঝে নিরবে সহ্য করে যাচ্ছেন। এসব অপরাধীদের ঠেকাতে প্রশাসন কিংবা কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও পরিলক্ষিত হয়নি। বিএনপি কিংবা জামাত-এনসিপির কোনো নেতাকেও এসব অপরাধীরা তোয়াক্কা করছেনা। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নিরীহ মানুষজনের আশ্রয় খোঁজারও স্থান নেই। প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার মিলছেনা।
অতি সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল খাইয়ূম তার অনুগত যুবলীগ ক্যাডার আব্দুল কুদ্দুস টিটু সদলবলে বিএনপিতে যোগ দেন। পেশীশক্তি ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্বিঘ্নে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ভূমিসহ দোকানপাট জবর দখল করে তার অনুগত ক্যাডারদের দিয়ে এ ধরণের অপরাধ-কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষকরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ মব সন্ত্রাসের ভয়ে আত্মগোপনে থাকায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি জবরদখল করা হচ্ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিএনপির ক্যাডার লোকমান আহমদ, রহিম উদ্দিন, কবির মিয়া, আফরোজ আলী, জসিম উদ্দিন, ফিরোজ রশীদ, কাউয়া সুমন, হাতকাটা জিলুসহ অগণিত সন্ত্রাসী। জুড়ি উপজেলার জুড়ি রেল ষ্টেশন, কামিনীগঞ্জ বাজার, ফুলতলা বাজার, জায়ফরনগর বাজার, সাগরনাল বাজারসহ অসংখ্য ছোটবড় বাজারের নিয়ন্ত্রণ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল খাইয়ূম গংদের নিয়ন্ত্রণে। প্রতিটি বাজার থেকেই বিএনপি-জামাত ক্যাডাররা নিয়মিতভাবে বখরা আদায় করা হচ্ছে। কেউ চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর নেমে আসে নির্যাতন-নিপীড়নের স্টীম রোলার। এমনকি নিরীহ লোকজনকে মামলায় জড়িয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এসব নব্য গড়ে উঠা অপরাধী চক্র। অতি সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল খাইয়ূমের দলীয় ক্যাডারা জুড়ি বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী আব্দুল কাশেমের দোকানে এসে চাঁদার জন্য ব্যাপক হামলা,ভাঙচুরসহ লুটপাট করে।এমনকি তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
সরেজমিন বিভিন্ন বাজার এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর বিএনপি-জামাতের সুবিধাবাদী ও সুযোগ সন্ধানীরা তাদের অপরাধ-অপকর্মের সহযোগী আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতার ধাপট দেখিয়ে সুবিধা আদায় করা উপজেলা চেয়ারম্যানকে সঙ্গে পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সুবিধাবাদী ব্যক্তিরা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় রাতারাতি পরিবর্তন করে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত বা এনসিপির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে তাদের ক্ষমতাকে আরও বেগবান করে অপরাধ-অপকর্ম করলেও ভয় ও আতংকে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান,এসব সন্ত্রাসীরা এলাকায় একই ধরনের আরও একাধিক অপরাধ করতে থাকায় ব্যবসায়ীসহ জনসাধারণের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে।এসব অনৈতিক ঘটনার বিষয়ে বাজার কমিটির সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো আইনী সহায়তা পাচ্ছেন না। পুলিশের এরকম নিষ্ক্রিয়তায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, উপজেলার এমন কোনো হাটবাজার নেই যেখান থেকে চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছেনা। ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে প্রতিনিয়ত জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি বাসাবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হচ্ছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর নেমে আসে নির্যাতন-নিপীড়ন।এমনকি অনেকেই তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জুড়ি বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান,“আমরা সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে পড়েছি।বিচার দেয়ারও কোনো স্থান নেই। আমরা চরম আতংক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। প্রকাশ্য দিবালোকে দোকানপাট থেকে চাঁদা আদায় ও দখল করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিএনপি সরকারের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের এসব কর্মকান্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা এবং উপজেলার সবক’টি হাটবাজারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।