যুক্তরাজ্য প্রবাসী শুয়েবের বক্তব্যে চাঞ্চল্য, প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর

ডেইলি বাংলার আলো ::
প্রকাশিত July 11, 2026
যুক্তরাজ্য প্রবাসী শুয়েবের বক্তব্যে চাঞ্চল্য, প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর

ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার খুরমা গ্রামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মোঃ শুয়েব আহমেদের একটি ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাজ্য থেকে দেওয়া ওই ফেসবুক লাইভে তিনি নিজের যৌন পরিচয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এবং নিজেকে সমকামী ও LGBTQ সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। লাইভে একজন ট্রান্সজেন্ডার সঙ্গীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে জানান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

লাইভটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একপর্যায়ে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি শুয়েব আহমেদের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান।

এরই জেরে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, কিছু কট্টর মৌলবাদী গোষ্ঠীর লোকজন প্রবাসী শুয়েব আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। হামলার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

শুয়েব আহমেদ ছাতক উপজেলার খুরমা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তাঁর বাবা এস এম শরীয়ত উল্লাহ।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন আলেমের অভিযোগ, শুয়েবের বিভিন্ন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের কারণে তাঁরা তাঁকে নাস্তিক হিসেবে মনে করেন।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময় আপত্তিকর পোস্ট ও মন্তব্য করে থাকেন। বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া এবং মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় মোঃ শুয়েব আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

তবে শুয়েব আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর বাড়িতে হামলার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।