বিশ্বনাথে রাজনৈতিক খোলস পাল্টিয়ে বিএনপির সাথে আঁতাত করে চলছে চাঁদাবাজীর মহোৎসব: নিরীহ লোকজন দিশেহারা

ডেইলি বাংলার আলো ::
প্রকাশিত October 19, 2026
বিশ্বনাথে রাজনৈতিক খোলস পাল্টিয়ে বিএনপির সাথে আঁতাত  করে চলছে চাঁদাবাজীর মহোৎসব: নিরীহ লোকজন দিশেহারা

রাজনৈতিক খোলস পাল্টিয়ে বর্তমানে বিএনপি’র ছায়াতলে থেকে অপরাধী চক্র গড়ে তুলে নির্বিঘ্নে চাঁদাবাজি আর মাস্তানী করছেন (বাঁ থেকে) জাফর আহমদ, জাকির হোসেন মামুন, নুরুল আলী, রাহিদ আহমদ গং।


নিজস্ব প্রতিবেদক, বিশ্বনাথ থেকে: সিলেটের সর্বত্র এখন চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব।জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যে বিশ্বনাথ উপজেলাটি এখন সম্পূর্ণরূপে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে চলছে।প্রশাসনও চলছে এসব অপরাধীদের কথায়।বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারসহ গ্রামের ছোটবড় বাজারগুলির নিয়ন্ত্রণ করছে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজরা। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা বিভিন্ন অপরাধ-অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল, তারাও এখন বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্দ্ধিদায় চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধমূলক কাজ।সুযোগ-সন্ধানী এসব অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষও তাদের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে পড়েছেন।এদেশের মানুষ এমন পৈশাচিক ঘটনা প্রবাহ পূর্বে কখনও উপলব্ধি করতে না পারলেও ৫ আগস্ট-২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাথে সাথে অপরাধী চক্র জেল হাজত থেকে বের হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কথায় কথায় চোখ রাঙানি, জায়গা-জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জবর দখল এখন নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। নিরীহ লোকজন শুধু চোখ বুঁঝে এসব দুষ্কর্ম নিরবে সহ্য করে যাচ্ছেন। অপরাধীদের ঠেকাতে প্রশাসন কিংবা কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতাকেও এসব অপরাধীরা তোয়াক্কা করছেনা। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নিরীহ মানুষজনের আশ্রয় খোঁজারও স্থান নেই। প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার মিলছেনা।

অতি সম্প্রতি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মামুন,ছাত্রলীগ পরিত্যাগ করে বর্তমানে জুলাই যোদ্ধা রাহিদ আহমদ, শামীম আহমদসহ তার অনুগত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার আব্দুল কুদ্দুস,ফিরোজ আলী সদলবলে বিএনপিতে যোগ দেন। পেশীশক্তি ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্বিঘ্নে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি,ভূমিসহ দোকানপাট জবর দখল করে নিচ্ছে। বিশেষকরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ এখন মব সন্ত্রাসের ভয়ে আত্মগোপনে থাকায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি প্রতিনিয়ত জবরদখল করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় বিএনপির ক্যাডার নুরুল আলাই, শেখ জাফর, লোকমান আহমদ,, আব্দুর রহিম, তাজ উদ্দিন, কবির মিয়া, আফরোজ আলী, জসিম উদ্দিন, ফিরোজ রশীদ, কাউয়া সুমন, হাতকাটা জিলুসহ অগণিত সন্ত্রাসী। বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার যথাক্রমে- বিশ্বনাথ নতুন বাজার, কালিগঞ্জ বাজার, রশিদপুর বাজার, রামপাশা, বৈরাগীবাজার, সিংগেরকাছ বাজারসহ অসংখ্য ছোটবড় বাজারের নিয়ন্ত্রণ এখন এসব সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে। প্রতিটি বাজার থেকেই বিএনপি ক্যাডাররা নিয়মিতভাবে বখরা আদায় করছেন। টার্গেট করে করে নিরীহ ব্যবসায়ীদের উপর চাঁদা ধার্য্য করে দেয়া হয়। কেউ চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর নেমে আসে নির্যাতন-নিপীড়নের স্টীম রোলার। এমনকি অনেক নিরীহ লোকজন রাজনৈতিক সহিংসতামূলক কোনো ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র হয়রানির উদ্দেশ্যে এসব মামলায় জড়িয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন বিভিন্ন বাজার এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর বিএনপি’র সুবিধাবাদী ও সুযোগ সন্ধানীরা তাদের অপরাধ-অপকর্মের সহযোগী আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতার ধাপট দেখিয়ে সুবিধা আদায় করা রাজনৈতিক ক্যাডারদের সঙ্গে পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সুবিধাবাদী ব্যক্তিরা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় রাতারাতি পরিবর্তন করে নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে তাদের ক্ষমতাকে আরও বেগবান করে অপরাধ-অপকর্ম করলেও ভয় ও আতংকে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান,এসব সন্ত্রাসীরা এলাকায় একই ধরনের আরও একাধিক অপরাধ করতে থাকায় ব্যবসায়ীসহ জনসাধারণের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে।এসব অনৈতিক ঘটনার বিষয়ে বাজার কমিটির সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো আইনী সহায়তা পাচ্ছেন না। পুলিশের এরকম নিষ্ক্রিয়তায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝেও চরম ক্ষোভ এবং হতাশা বিরাজ করছে।

একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, উপজেলার এমন কোনো হাটবাজার নেই যেখান থেকে চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছেনা।ছোট হোক কিংবা বড় যেকোনো ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে প্রতিনিয়ত জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি বাসাবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হচ্ছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর নেমে আসে নির্যাতন-নিপীড়ন।এমনকি অনেকেই তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান,“আমরা সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে পড়েছি।বিচার দেয়ারও কোনো স্থান খুঁজে পাচ্ছিনা। আমরা চরম আতংক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। প্রকাশ্য দিবালোকে দোকানপাট থেকে চাঁদা আদায় ও দখল করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর কোনো কার্যকর প্রতিকার মিলছেনা।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিএনপি সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের এসব কর্মকান্ডের নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা এবং উপজেলার সবক’টি হাটবাজারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।