স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান তার ছেলে শান্ত খানের মৃত্যুর পর তাদের গড়ে তোলা প্রভাব-প্রতিপত্তির সাম্রাজ্য বর্তমানে তার ভাই হাফিজ খানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পরও এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্যের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। জীবদ্দশায় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানের বিরুদ্ধে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, অবৈধ মাদক ব্যবসা, জমি দখল, প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানের মৃত্যুর পর তার প্রভাব বলয়ের বড় একটি অংশ বর্তমানে তার ভাই হাফিজ খানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি’র এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এর ছত্রচ্ছায়ায় বীরদর্পে নানান অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সাধারণ জনগণের মধ্যে এক ধরণের ভীতি ও আতংক বিরাজ করছে। হরি চন্দ্র দেবনাথ (৪২) নামের একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, গত ১৩ই এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে একদল সন্ত্রাসী তার দোকানে এসে হুমকি-ধামকি দেয় এবং পরদিন ১৪ এপ্রিল বাঙালির নববর্ষ উপলক্ষে বাংলা নববর্ষ পালনের জন্য ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ব্যবসায়ী হরি চন্দ্র দেবনাথ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ব্যাপক মারধর ও দোকান ভাংচুর করে ক্ষতি সাধন করে। এ সময় হামলাকারীরা তার ক্যাশ বাক্স ভেঙ্গে নগদ প্রায় ১ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীদের ভয়ে উপস্থিত জনতা মুখ খুলে প্রতিবাদ ও সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। পরবর্তীতে হামলা-ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় ব্যবসায়ী হরি চন্দ্র দেবনাথ চাঁদপুর সদর থানায় অভিযোগ করতে গেলেও পুলিশ কোনো অভিযোগ নেয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওইদিন রাতেই গণপিটুনীতে নিহত হন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান। সেলিম খানের মৃত্যুর পর তার প্রভাব বলয়ের বড় একটি অংশ বর্তমানে হাফিজ খানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং ক্ষমতাসীন দলের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের ছত্রচ্ছায়ায় বীরদর্পে নানান অপকর্ম চালিয়ে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর ক্ষমতাকালীন সময়ে তাদের কাছে কেউ চাঁদার জন্য না আসলেও সম্প্রতি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে তাদেরকে আবারও চাঁদা দিতে হচ্ছে। বিশেষকরে সাধারণ ব্যবসায়ী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এক ধরণের ভীতি ও আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। তারা অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।