স্টাফ রিপোর্টার : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত সিলেটের বিয়ানীবাজার থানার মাথিউরা গ্রামের ফয়ছল আহমদের সদ্য বিধবা স্ত্রী ছামিরা আক্তার (২২) দুই নরপশু কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, গত ২২ জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়িতে ফার্মেসী কর্মচারী সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলাধীন মাথিউরা গ্রামের মৃত রুহেল আহমদের পুত্র ফয়ছল আহমদ বাসায় ফিরছিলেন দুপুরের খাবার খেতে। কিন্তু সারাদেশের ন্যায় রাজধানী ঢাকার অলিতে-গলিতে পুলিশের সাথে ছাত্র-জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ ও ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট ও শার্ট গানের গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশের গুলিতে অনেক পথচারী আহত ও নিহত হন। চারদিকে গুলি আর গুলি চলতে থাকে। রাস্তা দিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে বিদ্ধ হন ফয়ছল আহমদ। তার লাশ কোথায় আছে কেহই বলতে পারেনা।
এদিকে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েন। কোথায় যাবেন, কি করে বাঁচবেন কোনো কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। তার এই অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নেয় ফয়ছল আহমদের সহকর্মী আহসান ও আব্দুল্লাহ। প্রথম প্রথম বিভিন্নভাবে তাকে সহায়তার আশ্বাস দিলেও তাদের লুলুপ দৃষ্টি পড়ে ছামিরা আক্তারের উপর। গত ২ আগস্ট মানুষরূপী এসব হায়েনারা ছামিরা আক্তারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে এবং মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও তুলে রাখে। যাওয়ার সময় এসব নরপশু ছামিরা আক্তারের হাতে ২০ হাজার টাকাও দিয়ে যায়। নরপশুরা ছামিরা আক্তারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে দিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে টাকা রোজগার করতে চেয়েছিল। নরপশুদের দ্বারা ধর্ষিতা ছামিরা আক্তার কোনো উপায় না পেয়ে গোপনে ঢাকা থেকে চলে এসে তার মামার বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে দেশের সার্বিক অবস্থা খুবই শোচনীয় হওয়ায় ভিকটিমের কোনো মেডিকেল টেস্ট করানোও সম্ভব হয়নি কিংবা প্রশাসনের সকল স্তর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নেয়ায় এবং পুলিশ বাহিনীকেও গণহারে হত্যার কারণে ভিকটিম কিংবা তার পরিবারের লোকজন আইনের আশ্রয় গ্রহণও করতে পারছেন না।
পত্রিকা প্রকাশঃ ৭ আগস্ট ২০২৪ (বাংলার আলো)